খড়গপুরে ঝাড়েশ্বর শিব মন্দিরে গাজন উৎসবের সূচনা!
অরিন্দম চক্রবর্তী : কয়েক হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী খড়গপুর শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত ঝাড়েশ্বর শিব মন্দিরে শুরু হয়েছে গাজন উৎসব। মেলা উৎসব কমিটির উদ্যোগে ১০ এপ্রিল থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত এই মেলা চলবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।১০ এপ্রিল তারিখে উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন খড়গপুর চৈতন্য আশ্রমের বামন মহারাজ।
সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, “ভারতবর্ষের পুণ্যভূমিতে এত মন্দির বিশ্বের আর কোথাও নেই। এমন এক প্রাচীন মন্দিরের মেলার উদ্বোধন করতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি।”অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খড়গপুর শহরের বিশিষ্ট সমাজসেবী দীপক কুমার দাশগুপ্ত। তিনি বলেন, “মানবদেহ প্রকৃতির এক অমূল্য দান। বাবা-মা সহ সকল মানুষকে শ্রদ্ধা করা উচিত, কারণ প্রতিটি মানুষের মধ্যেই দেবত্ব বিরাজমান।
মানুষের মধ্যেই দেব-দেবীর শক্তি অনুভব করা যায়।”এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বি. হরিশ কুমার, সমাজসেবী গৌতম রায়, শ্রীনিবাস প্রভু সহ আরও বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।মেলা কমিটির সভাপতি শান্তনু দাস ও সম্পাদক দীপক হাতি জানান, এবারের মেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৭০টি স্টল রয়েছে। সাংস্কৃতিক সম্পাদক সঞ্জীব দাস জানান, ১১ এপ্রিল শিশুদের নৃত্যানুষ্ঠান, ১৫ এপ্রিল জি বাংলা ‘সা রে গা মা পা’-খ্যাত শিল্পীদের সঙ্গীতানুষ্ঠান এবং ১৬ এপ্রিল বিশেষ বাউল সঙ্গীতের আয়োজন করা হয়েছে।
৫ এপ্রিল থেকেই গাজনের ভক্তদের সমাগম শুরু হয়েছে। শতাধিক কৃচ্ছসাধনকারী ভক্ত ইতিমধ্যে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও পাতা পোড়া, আগুন ভাঙা ও ঝুলি আগুন প্রদর্শনের জন্য প্রায় তিন হাজার ভক্ত উপস্থিত হবেন বলে জানা গেছে। নীল পূজোর দিন লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম হবে বলে আয়োজকদের আশা।ঝাড়েশ্বর বাবার এই মেলা পাঁচটি গ্রামের মানুষ—ভগবানপুর, খিদিরপুর, ঢেকিয়া, মাহালী পাড়া ও নিরঞ্জন বাড়—কে নিয়ে গঠিত ৩০ সদস্যের একটি কমিটির পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে।জনশ্রুতি অনুযায়ী, কয়েক হাজার বছরের প্রাচীন এই মন্দিরটি খড়গপুর শহরের অন্যতম প্রাচীন পাঁচটি শিব মন্দিরের একটি। বলা হয়, মহাভারতের পঞ্চপাণ্ডবরাও একসময় এই স্থানে আগমন করেছিলেন।