কোলাঘাটে ফুচকা খেয়ে শতাধিক অসুস্থ, নমুনা পরীক্ষার নির্দেশ প্রশাসনের; ফুচকার গুণমান যাচাই ও নজরদারির দাবি জনস্বাস্থ্য রক্ষা সংগঠনের

নিজস্ব সংবাদদাতা :কোলাঘাটের সাগরবাড় গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ফুচকা খেয়ে শতাধিক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অসুস্থদের মধ্যে ৩১ জনকে পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পাঁচ বছরের শিশু কৃষ্ণেন্দু দিন্ডার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে তাম্রলিপ্ত মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় দু’জন ফুচকা বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।কোলাঘাট ব্লক হাসপাতাল ও জনস্বাস্থ্য রক্ষা সংগঠনের ব্লক কমিটির কার্যকরী সভাপতি নারায়ণ চন্দ্র নায়কের দাবি, গত ১৭ অক্টোবর দক্ষিণ সাগরবাড় গ্রামের বাসিন্দা সন্তোষ মান্নার পদমপুর দুর্গামণ্ডপের কাছে থাকা স্টল থেকে ফুচকা খেয়ে সাগরবাড়, পদমপুর, দেউলবাড়, রেনুবাড় ও বরদাবাড়ের একাংশের শতাধিক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েন। একই পরিবারের ছয়জনও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। কয়েকজন অসুস্থের বাড়িতে এখনও স্যালাইন দিয়ে চিকিৎসা চলছে।অসুস্থদের উপযুক্ত চিকিৎসা, এলাকায় সরকারি চিকিৎসকদের নিয়ে মেডিক্যাল টিম পাঠানো এবং ফুচকা-সহ রাস্তার খাবারের গুণমান পরীক্ষা ও নজরদারির দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে জনস্বাস্থ্য রক্ষা সংগঠন। সংগঠনের পক্ষ থেকে নারায়ণ চন্দ্র নায়ক ও যুগ্ম সম্পাদক অর্জুন ঘোড়ই হাসপাতালে গিয়ে রোগীদের চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার মৌ মজুমদারের সঙ্গে কথা বলেন। হাসপাতাল সূত্রে তাঁদের জানানো হয়েছে, ৩১ জনের মধ্যে একজনকে জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকি ৩০ জনের মধ্যে ছয়জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। অন্যদের অবস্থাও মোটামুটি স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় ও হাসপাতালে যান জেলাশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, কোলাঘাট ও পাঁশকুড়া ব্লকের বিডিও এবং থানার আইসি। জেলাশাসক জানিয়েছেন, নমুনা পরীক্ষার জন্য মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে (CMOH) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপারও ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।ফুচকা খেয়ে এত মানুষের অসুস্থ হয়ে পড়ার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট ও তদন্তের ফলের দিকেই এখন নজর রয়েছে।