কাউন্সিলরের লাথিতে মৃত্যু ৮১ বছরের বৃদ্ধের! নিউ ব্যারাকপুরে চাঞ্চল্য, অভিযুক্ত তৃণমূল কাউন্সিলর বহিষ্কৃত ও পুলিশি হেফাজতে!

অভিজিৎ সাহা : সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তার মধ্যেই নিউ ব্যারাকপুরে এক প্রবীণ ব্যক্তির মৃত্যুকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা ছড়াল। অভিযোগ, নিউ ব্যারাকপুর পৌরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের লাথির আঘাতে মৃত্যু হয়েছে ৮১ বছরের তুলসী অধিকারীর। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া, ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।মৃত তুলসী অধিকারী ব্যারাকপুরের মনিরামপুর এলাকার বাসিন্দা। অভিযোগ, তাঁর বাড়ির সামনে একটি অবৈধ নির্মাণ কাজ চলছিল। সেই নির্মাণ নিয়ে তিনি নিউ ব্যারাকপুর পুরসভায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং কাজ বন্ধ করার দাবি জানান। রবিবার সেই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই চরম অশান্তির সূত্রপাত বলে অভিযোগ পরিবারের।পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রবিবার ঘটনাস্থলে এসে তুলসী অধিকারীর ছেলে হেমন্ত অধিকারীকে মারধর শুরু করেন কাউন্সিলর রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। ছেলেকে মারধরের খবর পেয়ে পাশের দোকান থেকে বেরিয়ে আসেন বৃদ্ধ তুলসী অধিকারী। তখন তাঁকেও লাথি মারা হয় বলে অভিযোগ।

গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তড়িঘড়ি তাঁকে ব্যারাকপুর ক্যান্টনমেন্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পাড়া-প্রতিবেশী ও মৃতের পরিবার পুলিশের কাছে অভিযুক্ত কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে তৃণমূল কংগ্রেস দ্রুত পদক্ষেপ করে অভিযুক্ত কাউন্সিলর রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে দল থেকে বহিষ্কার করে। বহিষ্কারের পরেই তাঁকে পুলিশ আটক করেছে। সূত্রের খবর, তাঁর বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের হতে পারে।যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, রবিবার তিনি ওই এলাকায় ‘পথশ্রী’ প্রকল্পের উদ্বোধনে গিয়েছিলেন। তখন একটি বাড়িতে অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ ওঠে এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। তিনি পুলিশকে জানান, সেখানে কেবল মেরামতির কাজ হচ্ছে, কোনও বেআইনি নির্মাণ নয়। এরপর তিনি কাছের একটি চায়ের দোকানে বসলে, তুলসী অধিকারী ও তাঁর ছেলে এসে তাঁকে গালিগালাজ করেন এবং জামার কলার ধরে মারধরের চেষ্টা করেন। তাঁর দাবি, ওই বৃদ্ধ নিজেই পড়ে গিয়ে অজ্ঞান হন এবং হাসপাতালে মৃত্যু হয়। তিনি কাউকে মারধর করেননি।অন্যদিকে ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিং এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, অভিযুক্ত কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক অভিযোগ ছিল। যে বাড়িতে অবৈধ নির্মাণ চলছিল, সেখান থেকে বিশেষ সুবিধা নিয়ে অভিযোগকারীদের উপর হামলা চালানো হয়েছে। সেই হামলার ফলেই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এমন ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা ও আইনি পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।