লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ফের ‘বড় ধামাকা’! ভাতা বেড়ে ১,৫০০ ও ১,৭০০ টাকা—নতুন নিয়মে কী বলছে নবান্ন?

অভিজিৎ সাহা: রাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এ বড় পরিবর্তনের ঘোষণা। ২০২৬ সালের অন্তর্বর্তী বাজেটে ভাতার পরিমাণ এক ধাক্কায় ৫০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফেব্রুয়ারি থেকেই নতুন হার কার্যকর হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী—
> General/OBC শ্রেণির মহিলারা মাসে ১,৫০০ টাকা (আগে ১,০০০) পাবেন।
> SC/ST শ্রেণির মহিলারা মাসে ১,৭০০ টাকা (আগে ১,২০০) পাবেন।
বাজেট পেশের সময় অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এই ঘোষণা করেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক মহলে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কড়া নিয়ম : ভাতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নবান্নের তরফে ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত একাধিক নির্দেশিকা জারি হয়েছে— উপভোক্তার নিজস্ব সিঙ্গেল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বাধ্যতামূলক। জয়েন্ট অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হবে না—এমন অ্যাকাউন্ট থাকলে ভাতা বন্ধ হতে পারে।ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার কার্ড ও সচল মোবাইল নম্বর লিঙ্ক থাকতে হবে। আবেদনের নিয়মে শিথিলতা -সরকার জানিয়েছে, আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হয়েছে।এখন ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ড বাধ্যতামূলক নয়।কেবল আধার কার্ড থাকলেই আবেদন করা যাবে। বয়সসীমা: ২৫ থেকে ৬০ বছর।আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।স্থায়ী সরকারি চাকরি বা পেনশনভোগী হলে আবেদন করা যাবে না।

নতুন আবেদনকারীরা ‘দুয়ারে সরকার’ শিবির বা সংশ্লিষ্ট বিডিও অফিস থেকে বিনামূল্যে ফর্ম সংগ্রহ করতে পারবেন। সঠিক নথি জমা দেওয়ার ৩০–৬০ দিনের মধ্যে যোগ্যদের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছনোর কথা জানিয়েছে প্রশাসন। সমীক্ষায় কী বলছে তথ্য?নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন-এর ‘প্রতিচী ট্রাস্ট’-এর এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে—প্রায় ৮৫.৬% মহিলা মনে করেন, এই প্রকল্প তাঁদের ক্ষমতায়িত করেছে।৬১.১% মহিলা জানিয়েছেন, পারিবারিক সিদ্ধান্তে তাঁদের গুরুত্ব বেড়েছে।বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৪১ লক্ষের বেশি মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধাভোগী। গত পাঁচ বছরে সরকারের হিসাবে মহিলাদের হাতে পৌঁছেছে প্রায় ৭৪ হাজার কোটি টাকা।নতুন ভাতা ও সরলীকৃত নিয়মে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ যে রাজ্যের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলির মধ্যে আরও প্রভাব বিস্তার করতে চলেছে, তা বলেই মনে করছেন প্রশাসনিক মহল।