প্রয়াত কিংবদন্তি বডিবিল্ডার রমা প্রসাদ মুখোপাধ্যায়, দোল পূর্ণিমায় থেমে গেল এক ক্রীড়া সংগ্রামীর পথচলা!
নিজস্ব সংবাদদাতা : বাংলার ক্রীড়া জগতে নেমে এল শোকের ছায়া। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাঙালি বডিবিল্ডার ও প্রথিতযশা ক্রীড়া সংগঠক Rama Prasad Mukherjee দোল পূর্ণিমার পবিত্র দিনে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিট নাগাদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ ক্রীড়ামহল। ১৯৩৪ সালে অবিভক্ত মেদিনীপুরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।
অদম্য পরিশ্রম, কঠোর অনুশীলন এবং সংগঠক হিসেবে দূরদর্শিতার জোরে তিনি শুধু বাংলায় নয়, আন্তর্জাতিক স্তরেও নিজের পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন। তাঁর সময়ে ইউকে, ইউএসএ, আফ্রিকা ও এশিয়ার বহু দেশ অংশগ্রহণ করত এমন প্রতিযোগিতার সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন।
সেই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কিংবদন্তি বডিবিল্ডার Lee Haney, যিনি ১৯৮২ সালে মিস্টার ইউনিভার্স খেতাব অর্জন করেন।রমা প্রসাদ মুখোপাধ্যায় শুধু সফল বডিবিল্ডারই নন, তিনি ছিলেন একজন সম্মানিত জাতীয় প্রশিক্ষক ও বিচারক।
মেদিনীপুর শহরের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা দেশপ্রিয় ব্যায়ামাগার শুধু একটি জিমনেসিয়াম নয়, এটি বাংলার শরীরচর্চা আন্দোলনের এক জীবন্ত ইতিহাস। এই ক্লাবেই অনুশীলন করে ১৯৮৮ সালে ‘ওয়ার্ল্ড অ্যামেচার বডি বিল্ডিং চ্যাম্পিয়নশিপ’ জিতেছিলেন Premchand Degra।
একসময় এই ব্যায়ামাগারেই নিয়মিত যাতায়াত ছিল কিংবদন্তি Manohar Aich-এর। এখান থেকে উঠে এসেছেন বহু বেঙ্গল চ্যাম্পিয়ন। ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় মেদিনীপুর দেশপ্রিয় ব্যায়ামাগার।
ইন্ডিয়ান বডি বিল্ডার্স ফেডারেশন (আইবিবিএফ)-এর জাতীয় প্রশিক্ষক ও বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি কানাডাভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ বডিবিল্ডিং (আইএফবিবি)-এর আন্তর্জাতিক বিচারক এবং সিঙ্গাপুরের এশিয়ান বডিবিল্ডিং অ্যান্ড ফিজিক স্পোর্টস ফেডারেশন (এবিবিএফ)-এর এশিয়ান বিচারক হিসেবেও সম্মান অর্জন করেছিলেন।
তাঁর হাত ধরেই বহু প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্য পেয়েছেন। ক্রীড়া সংগঠন গড়ে তোলা থেকে প্রতিযোগিতা পরিচালনা—সব ক্ষেত্রেই তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য। দোলের রঙে যখন মেতেছিল শহর, ঠিক সেই দিনেই হারাল বাংলা তার এক ক্রীড়া পুরোধাকে। তাঁর কর্মময় জীবন ও অবদান দীর্ঘদিন স্মরণে রাখবে ক্রীড়া জগৎ।