আধুনিক ফুটবলের নতুন ছক:পেপ গার্দিওলার ‘লাভলপিয়ানা মডেল’ এবার ভারতের দরজায়?

নিজস্ব প্রতিবেদন: আধুনিক ফুটবলে প্রতি মুহূর্তে বদলে যাচ্ছে কৌশল ও পরিকল্পনার ধারা। কোচরা এখন আর শুধু ফিটনেস আর স্কিলের ওপর ভরসা রাখছেন না, বুদ্ধিমত্তা এবং পজিশন-ভিত্তিক খেলাকেই দিচ্ছেন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব। ইউরোপের শীর্ষ স্তরের ক্লাবগুলোতে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ‘লাভলপিয়ানা মডেল’। এই নতুন ছক বা কৌশল ধীরে ধীরে প্রভাব ফেলছে আন্তর্জাতিক ফুটবলে। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের ফুটবলে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই মডেল। প্রশ্ন উঠছে, ভারতও কি প্রস্তুত এই কৌশল গ্রহণে? ছবিতে যে কৌশলচিত্র দেখা যাচ্ছে, সেখানে মাঠে ৩-২-২-৩ ধরনের গঠন দেখা যাচ্ছে, যেখানে প্রতি পজিশনে খেলোয়াড়রা শুধু বল নিয়ে নয়, বল ছাড়াও কেমন জায়গা দখল করছেন তার ভিত্তিতে পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। এই ফর্মেশনে প্রতিপক্ষকে বারবার চাপে রাখা, বল দখলের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা এবং দ্রুত আক্রমণে যাওয়াই মূল উদ্দেশ্য। বিশ্ব ফুটবলের কৌশলগত বিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ নাম পেপ গার্দিওলা। তাঁর প্রভাবেই এই ‘পজিশনাল প্লে’-এর নতুন সংস্করণ ‘লাভলপিয়ানা’ জায়গা করে নিচ্ছে। যদিও ‘লাভলপিয়ানা’ শব্দটি মূলত এক ধরনের ইটালিয়ান ফ্যাশন ব্র্যান্ড, তবে ফুটবলে এটি হয়ে উঠেছে একটি কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির নাম—যেখানে শৈল্পিকতা ও পরিকল্পনার নিখুঁত মিশ্রণ রয়েছে। ভারতের ফুটবল কৌশলের ক্ষেত্রে এখনো অনেকটা কাজ বাকি। কোচ অমল দত্ত যখন ‘ডায়মন্ড সিস্টেম’ নিয়ে এসেছিলেন, তখন ভারতীয় ফুটবলে এক ধরনের বিপ্লব হয়েছিল। এখনো সেই কৌশলের প্রভাব থেকে বের হতে পারেনি অনেক ক্লাব। কিন্তু সময় বদলাচ্ছে। ভারতীয় সুপার লিগে কয়েকটি দল ইতিমধ্যেই আধুনিক ফর্মেশন ব্যবহার করছে। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছে, ভারতীয় ফুটবল কি তৈরি ‘লাভলপিয়ানা’ কৌশলকে আপন করে নিতে? ফুটবল বিশ্লেষক সুমন্ত ঘোষ বলছেন, “লাভলপিয়ানা কৌশল শুধু পজিশনের খেলা নয়, এটি একটি দৃষ্টিভঙ্গি—যেখানে খেলোয়াড়দের রিডিং অফ দ্য গেম, স্পেসের ব্যবহার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ। ভারতীয় ফুটবলে একে সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার। তবে সম্ভাবনা রয়েছে।” বিশ্ব ফুটবলে যখন কৌশলগত বিপ্লব ঘটছে, ভারতও তার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে পারে না। অমল দত্তের ডায়মন্ডের পর এবার কি ‘লাভলপিয়ানা’র পালা? উত্তর সময়ই দেবে।

লাভলপিয়ানা ছক।