মারণ থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত ছোট্ট সুমন, বাঁচাতে চাই ৪০ লক্ষ টাকা,পথে ছাত্রছাত্রীরা
সেখ ওয়ারেশ আলী:শৈশবের যে সময়টা হাসি-খেলা আর আনন্দে কাটার কথা, সেই বয়সেই মারণ থ্যালাসেমিয়ার সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হচ্ছে ছোট্ট সুমন দাসকে। চোখে রয়েছে সুস্থ হয়ে ওঠার স্বপ্ন, কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থ। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা। আর সেই বিপুল অর্থ জোগাড় করার সামর্থ্য নেই ঝাড়গ্রাম জেলার রগড়া গ্রামের দরিদ্র পরিবারটির। তাই সন্তানের জীবন বাঁচাতে আজ সমাজের মানুষের দরজায় দরজায় সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছেন অসহায় বাবা-মা।পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত সুমনের চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকরা বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের পরামর্শ দিয়েছেন। এই চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা। কিন্তু সুমনের বাবা পেশায় একজন টোটোচালক। প্রতিদিন টোটো চালিয়ে যে সামান্য অর্থ উপার্জন করেন, তা দিয়েই কোনওরকমে সংসার চলে। নুন আনতে পান্তা ফুরোনোর মতো পরিস্থিতিতে ছেলের চিকিৎসার জন্য এত বিপুল অর্থ জোগাড় করা তাঁর পক্ষে কার্যত অসম্ভব।একদিকে অসুস্থ সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে বাঁচার লড়াই, অন্যদিকে চিকিৎসার বিপুল খরচের চিন্তা—এই দুইয়ের মাঝে প্রতিনিয়ত ভেঙে পড়ছেন সুমনের বাবা-মা। সন্তানের সুস্থ হয়ে ওঠার আশায় তাঁরা চিকিৎসার পথ খুঁজছেন ঠিকই, কিন্তু অর্থের অভাবে সেই পথ ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। বাবা-মায়ের কাছে সন্তানের জীবনের চেয়ে বড় কিছু নেই। তাই নিজেদের অসহায়তার কথা ভুলে মানুষের কাছে হাত পাততেও পিছপা হচ্ছেন না তাঁরা।
তবে এই কঠিন সময়ে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন একদল ছাত্রছাত্রী। ছোট্ট সুমনের জীবন বাঁচানোর লড়াইয়ে সামিল হতে মেদিনীপুর শহরের বিভিন্ন রাস্তায় হাতে সাহায্যের কৌটো নিয়ে নেমেছেন তাঁরা। পথচলতি মানুষের কাছে সুমনের অসুস্থতার কথা তুলে ধরে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছেন। তাঁদের এই উদ্যোগে সাড়া দিয়ে অনেকেই নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। কারও দেওয়া সামান্য অর্থ, কারও আন্তরিক সহমর্মিতা—সবকিছুই যেন সুমনের পরিবারের কাছে নতুন করে আশার আলো হয়ে উঠছে।কিন্তু এখনও অনেকটা পথ চলা বাকি। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ৪০ লক্ষ টাকা সংগ্রহ করতে আরও বহু মানুষের সহযোগিতা দরকার। তাই সুমনের বাবা-মায়ের আকুল আবেদন, সমাজের বিত্তবান মানুষ থেকে শুরু করে সাধারণ প্রত্যেকেই যেন এই লড়াইয়ে তাঁদের পাশে দাঁড়ান।
একটু ভেবে দেখুন, আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী দেওয়া সামান্য সাহায্যও হয়তো একটি শিশুর চিকিৎসার পথ এগিয়ে দিতে পারে। যে বয়সে সুমনের বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা করার কথা, সেই বয়সে তাকে লড়তে হচ্ছে কঠিন অসুখের সঙ্গে। তার জীবনেও ফিরে আসুক হাসি, কাটুক হাসপাতালের যন্ত্রণা, পূরণ হোক সুস্থভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন।