ওড়িশা উপকূলের কাছে গভীর সমুদ্রে প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান, সাফল্য ONGC-র!
নিজস্ব সংবাদদাতা: ওড়িশা উপকূল থেকে প্রায় ৪৩ কিলোমিটার দূরে মহানদী অববাহিকার গভীর সমুদ্রে প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান পেল অয়েল অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস কর্পোরেশন (ONGC)। সংস্থার এই আবিষ্কার ভারতের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সম্পদের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।ONGC জানিয়েছে, আবিষ্কৃত কূপ থেকে টানা তিন দিন ধরে উৎসাহব্যঞ্জক হারে এবং স্থিতিশীল চাপে গ্যাসের প্রবাহ পাওয়া গিয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত গ্যাসের সঠিক প্রবাহের হার কিংবা ওই এলাকায় মোট কত পরিমাণ গ্যাস মজুত রয়েছে, সে সম্পর্কে কোনও নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করেনি সংস্থা।সর্বশেষ আবিষ্কারটি হয়েছে প্রায় ৭৭০ মিটার গভীর জলে। সমুদ্রতলের নীচে কূপটি প্রায় ১,৪৫০ মিটার পর্যন্ত খনন করা হয়েছে। এমডিডব্লিউ-২৮ (MDW-28) নামে কূপটি কোনার্ক থেকে প্রায় ২৩ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থিত।মহানদী অববাহিকায় ONGC-র চলমান অনুসন্ধান অভিযানের অংশ হিসেবে পরিকল্পিত চারটি কূপের মধ্যে এটিই প্রথম। লক্ষ লক্ষ বছর ধরে নদীবাহিত পলি এই অঞ্চলে জমা হয়ে বিভিন্ন ধরনের ভূতাত্ত্বিক গঠন তৈরি করেছে। সেই গঠনগুলির মধ্যে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো হাইড্রোকার্বন আটকে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।তবে মহানদী অববাহিকার একটি বড় অংশ উপকূল থেকে দূরে গভীর সমুদ্রে হওয়ায় সেখানে অনুসন্ধান ও খনন প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত জটিল। একই সঙ্গে এই ধরনের অভিযান যথেষ্ট ব্যয়বহুলও। ফলে গ্যাসের সন্ধান মিললেও এখনই বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হচ্ছে না।গ্যাসের ভাণ্ডার কতটা বড়, সেখান থেকে বাস্তবে কত পরিমাণ গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব এবং উত্তোলন আর্থিকভাবে লাভজনক হবে কি না—এসব বিষয় নিশ্চিত করতে আরও পরীক্ষা, তথ্য বিশ্লেষণ এবং মূল্যায়নমূলক ড্রিলিং প্রয়োজন হবে।প্রাকৃতিক গ্যাস ভারতের বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার শিল্প, নগর গ্যাস সরবরাহ এবং বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্র ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে সফল হলে দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর ক্ষেত্রে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। পাশাপাশি আমদানিকৃত জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রেও এর সম্ভাব্য প্রভাব রয়েছে।তবে সেই সম্ভাবনা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করছে পরবর্তী পর্যায়ের অনুসন্ধান ও মূল্যায়নের ফলের উপর।