কালিয়াচক কাণ্ডে বড় মোড়: কেন্দ্রীয় তদন্তের নির্দেশ, রাজ্যে আসছে সিবিআই!
অভিজিৎ সাহা : মালদহের কালিয়াচকে বিচারকদের ঘেরাও ও দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় বড়সড় মোড় এল। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে এবার গোটা ঘটনার তদন্তভার যাচ্ছে সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)-এর হাতে। সুপ্রিম কোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণের পর এই কেন্দ্রীয় তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকা পৌঁছে গিয়েছে এবং খুব শীঘ্রই সিবিআই আধিকারিকরা রাজ্যে এসে তদন্ত শুরু করবেন।ঘটনার সূত্রপাত ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়াকে কেন্দ্র করে। বুধবার সকাল থেকেই মালদহের কালিয়াচক এলাকায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে। বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই ক্ষোভ বিক্ষোভে রূপ নেয় এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অভিযোগ, এসআইআর সংক্রান্ত কাজে যাওয়া সাতজন বিচারক ও বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে কালিয়াচক ২ নম্বর ব্লকের বিডিও অফিসে দীর্ঘক্ষণ ঘেরাও করে রাখা হয়। তাঁদের মধ্যে তিনজন মহিলা বিচারকও ছিলেন, যা ঘটনাটিকে আরও উদ্বেগজনক করে তোলে।রাত গভীর হলে বিশাল পুলিশবাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রায় নয় ঘণ্টা পর অবরুদ্ধ বিচারকদের নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে এই ঘটনার পর থেকেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর এবং প্রশাসনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে বিষয়টি দ্রুত পৌঁছে যায় সুপ্রিম কোর্টে। শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এই ঘটনাকে বিচারব্যবস্থাকে ভয় দেখানোর এক “পরিকল্পিত চেষ্টা” বলে উল্লেখ করেন। আদালত স্পষ্ট জানায়, বিচারকদের নিরাপত্তা নিয়ে এমন পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এর প্রভাব বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতার উপর পড়তে পারে।এরপরই সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেয়, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সিবিআই অথবা এনআইএ-কে দিয়ে করাতে হবে। যেহেতু এই ঘটনায় বিস্ফোরণ বা জঙ্গি যোগের অভিযোগ সামনে আসেনি, তাই শেষ পর্যন্ত সিবিআইকেই তদন্তভার দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। তদন্তে নিরাপত্তা ব্যর্থতা, বিক্ষোভের নেপথ্যে কারা ছিল এবং এর পেছনে কোনও বৃহত্তর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র আছে কি না— সবদিকই খতিয়ে দেখা হবে।সব মিলিয়ে কালিয়াচক কাণ্ডে কেন্দ্রীয় তদন্তের নির্দেশে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও কয়েকগুণ বেড়ে গেল। ভোটের মুখে এই ঘটনা যে নির্বাচনী সমীকরণে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।