মোথাবাড়ি কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টের কড়া বার্তা, তদন্তভার সম্পূর্ণভাবে এনআইএ-র হাতে!
নিজস্ব সংবাদদাতা : বিধানসভা ভোটের আবহে মালদার মোথাবাড়ি কাণ্ডে সোমবার কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ট্রাইবুনালের কাজ যাতে নির্বিঘ্নে চলতে পারে, সেই নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনের দায়িত্ব। একই সঙ্গে বিচারকদের উপর হামলা ও দীর্ঘক্ষণ ঘেরাওয়ের ঘটনার তদন্তভার সম্পূর্ণভাবে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।রাজ্যের তরফে আদালতে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ২৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে মোফাক্কারুল ইসলাম ও শাহজাহান আলিকে মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, ধৃতদের দ্রুত এনআইএ-র হেফাজতে দিতে হবে। পাশাপাশি, এতদিনের তদন্তে সংগৃহীত সমস্ত নথি, এফআইআর এবং অন্যান্য প্রমাণও কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।শুনানির সময় মোথাবাড়ি ঘটনার একটি ভিডিও আদালতে পেশ করা হয়। সেই ভিডিওতে এক বিচারকের আতঙ্কিত আর্তনাদ শোনা গিয়েছে বলে জানা যায়। ভিডিওটি দেখার পর প্রধান বিচারপতি কঠোর ভাষায় জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্য প্রশাসন ব্যর্থ হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে শীর্ষ আদালত পিছপা হবে না।এদিন নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কিছু মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় বাহিনী, সিআরপিএফ-কে ঘিরে করা মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে বলে কমিশনের আশঙ্কা। সেই প্রসঙ্গও আদালতের নজরে আনা হয়।সোমবার সুপ্রিম কোর্টে এনআইএ একটি ২৫ পাতার প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিয়েছে। সেখানে আক্রান্ত বিচারকদের বয়ান ছাড়াও মোথাবাড়ি এলাকার ২২০ জন বুথ লেভেল অফিসারের জবানবন্দি গুরুত্ব সহকারে নথিভুক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, স্থানীয় পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়েছে, যা গোটা ঘটনার পেছনে পরিকল্পিত চক্রান্তের ইঙ্গিত দিচ্ছে।তদন্তকারী সূত্রের দাবি, ঘটনার দিন পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ ছিল, প্রশাসনের তরফে কোনও গাফিলতি ছিল কি না এবং বিচারকদের নিরাপত্তা কেন ভেঙে পড়ল— তার পূর্ণাঙ্গ চিত্রই এই রিপোর্টে তুলে ধরা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্তরে খতিয়ে দেখার পরই তা সুপ্রিম কোর্টে পেশ করা হয়েছে, ফলে মোথাবাড়ি কাণ্ডে আগামী দিনে আরও বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত মিলছে।