ভোট মিটতেই স্ট্রংরুমে তুমুল বিতর্ক, বৃষ্টির রাতেই তীব্র সংঘর্ষে উত্তাল কলকাতা!

নিজস্ব সংবাদদাতা : ভোট পর্ব শেষ হতেই স্ট্রংরুম ঘিরে উত্তেজনা চরমে উঠল কলকাতায়। ঝড়-বৃষ্টির মাঝেই Khudiram Anushilan Kendra-র বাইরে শুরু হয় নাটকীয় পরিস্থিতি। তৃণমূল নেতা Kunal Ghosh ও Shashi Panja ধরনায় বসেন, অভিযোগ ওঠে স্ট্রংরুমে অনিয়মের। মুহূর্তেই পরিস্থিতি গড়ায় তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের সংঘর্ষে।এই উত্তেজনার আবহেই ঘটনায় নতুন মোড় আনেন ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করেই রাত আটটা নাগাদ সেখানে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

তিনি পৌঁছে যান Shakuntala Memorial School প্রাঙ্গণে, যেখানে ভবানীপুর কেন্দ্রের ইভিএম রাখা হয়েছে। প্রথমে তাঁকে ভিতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। যদিও পরে তিনি স্ট্রংরুমে প্রবেশ করেন।স্ট্রংরুমের ভিতরেও পরিস্থিতি ছিল যথেষ্ট উত্তপ্ত। এ দিনই গণনার সময়ে ইভিএম কারচুপির অভিযোগ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ দিন একটি ভিডিয়ো বার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, গণনা কেন্দ্রে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা করেছেন তিনি। সব এলাকায় তৃণূমূল কর্মীদের পাহারা দিতে বলেছেন তিনি। নিজেও পাহারা দেবেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি। ভবানীপুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সেখানে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী-র নির্বাচনী এজেন্ট নজরে নজরে রাখেন।

দুই শিবিরের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।শুভেন্দু অধিকারী দাবি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাহারায় রেখেছিলেন তাঁর নির্বাচনী এজেন্ট। কেন? ক্যাপশনে লেখেন, “উনি যতই চেষ্টা চালান না কেন, কোনও রকম নিয়ম বহির্ভূত কাজ তিনি করতে পারেননি। উনি যতক্ষণ স্ট্রং রুম প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন, আমার ইলেকশন এজেন্ট অ্যাডভোকেট সূর্যনীল দাস নিজে উপস্থিত থেকে ওনাকে কড়া নজরদারির মধ্যে রেখেছিলেন যাতে উনি কোনও অসৎ উপায় অবলম্বন করতে না পারেন…”। অর্থাৎ শুভেন্দু দাবি করলেন, তাঁর এজেন্টের কড়া নজরদারিতে তৃণমূল কোনও বাড়তি সুবিধা করতে পারেনি।সব মিলিয়ে, ঝড়-বৃষ্টির রাতেই স্ট্রংরুম ঘিরে তৈরি হয় হাইভোল্টেজ রাজনৈতিক নাটক, যা ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।