মেদিনীপুরে এসএফআই কর্মীদের উপর হামলার প্রতিবাদে মিছিল, রাজ্য-কেন্দ্রকে একের পর এক ইস্যুতে নিশানা সেলিমের!

সেখ ওয়ারেশ আলী : যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে মেদিনীপুর কলেজে এসএফআই কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার সন্ধ্যায় মেদিনীপুর শহরে নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত হল প্রতিবাদ মিছিল। মিছিলে অংশ নেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী তথা সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।মেদিনীপুর শহরের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মূর্তির পাদদেশ থেকে মিছিলটি শুরু হয়। শহরের রিং রোড পরিক্রমা করে ফের একই জায়গায় এসে শেষ হয় মিছিল। মিছিল শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ইস্যুতে রাজ্য ও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হন সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক।বহরমপুরে প্রাক্তন যুব তৃণমূল সভাপতি পাপাই ঘোষের বাড়ি থেকে সাতটি আগ্নেয়াস্ত্র, পাঁচটি ম্যাগাজিন ও ১৮৬টি কার্তুজ উদ্ধারের প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে মহম্মদ সেলিম বলেন, “ওখানকার নেতৃত্ব আছেন, তাঁরাই বলবেন।”যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের তাণ্ডব এবং ঘটনার রাতে নিরাপত্তারক্ষীদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ছাত্রদের উপর হামলার সময় পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীদের ভূমিকা অনেক ক্ষেত্রেই নিষ্ক্রিয় ছিল। অতীতের বিভিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে ঐশী ঘোষের উপর হামলার সময়ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল বলে দাবি করেন তিনি।রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় মন্ত্রীদের ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’ নিয়েও কটাক্ষ করেন সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক।

তাঁর মন্তব্য, “মন্ত্রীদের মধ্যে কম্পিটিশন চলছে—কে কত মুখ দেখাতে পারবেন।”স্বাস্থ্যমন্ত্রীর একের পর এক হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শন এবং হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সেলিমের বক্তব্য, হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় বেডের ঘাটতি পূরণে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তাঁর অভিযোগ, হাসপাতালগুলিকে শক্তিশালী করার পরিবর্তে বিমা সংস্থাগুলিকে অর্থ দেওয়ার বিষয়েই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।স্বাস্থ্যসাথী ও আয়ুষ্মান ভারত—হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গেলে রোগীরা কোন বিমার সুবিধা পাবেন, তা নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন তিনি। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের জন্য আরও হাসপাতাল, বেড এবং উন্নত চিকিৎসা পরিকাঠামো প্রয়োজন।

সেই জায়গায় নজর না দিয়ে বিমা সংস্থাগুলিকে অর্থ দেওয়ার দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।অন্যদিকে, পাহাড় ও শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলেও রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেন সেলিম। তাঁর অভিযোগ, “উত্তরবঙ্গকে আবার অশান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।” তাঁর আশঙ্কা, এ ধরনের বৈঠকের পর পাহাড় থেকে উত্তরবঙ্গ পর্যন্ত নতুন করে অশান্তির পরিবেশ তৈরি হতে পারে।সব মিলিয়ে মেদিনীপুরের প্রতিবাদ মিছিলের মঞ্চ থেকেই যাদবপুরের ঘটনা, হাসপাতালের পরিকাঠামো, মন্ত্রীদের সারপ্রাইজ ভিজিট থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গের নিরাপত্তা—একাধিক ইস্যুতে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হলেন সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।