গড়বেতায় প্রয়াত সরোজ মজুমদারের স্মরণসভা, প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থ!

সেখ ওয়ারেশ আলী : গড়বেতার রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের পরিচিত ব্যক্তিত্ব প্রয়াত সরোজ মজুমদার (১৯৪৮–২০২৬)-এর স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হল গড়বেতার গণগণি রয়্যাল রেসিডেন্সিতে। অনুষ্ঠানে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, সমাজসেবা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং সাধারণ মানুষের পাশে থাকার নানা স্মৃতি তুলে ধরেন উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা।স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ তথা বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক ড. রঞ্জিত কুমার সামন্ত। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সরোজ মজুমদারের পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী, শিক্ষক, সংস্কৃতিপ্রেমী এবং গড়বেতার বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।দীর্ঘদিন শ্রমিক-কৃষক আন্দোলন ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সরোজ মজুমদার।

১৯৭০ সালের ভোগলুশোল আন্দোলনে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা এবং পরবর্তী দীর্ঘ কারাবাস তাঁর রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে স্মরণ করেন বক্তারা।রাজনীতির পাশাপাশি সাহিত্যচর্চা, আলোকচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। গড়বেতায় ‘ব্যাচেলর্স কর্নার’-এর মাধ্যমে সাংস্কৃতিক চর্চা ও সমাজসেবার যে পরিসর তিনি গড়ে তুলেছিলেন, স্মরণসভায় উঠে আসে সেই অবদানের কথাও। তাঁর লেখালেখি, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং সাধারণ মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার নানা দিক নিয়ে বক্তারা স্মৃতিচারণ করেন।স্মরণসভায় গড়বেতার সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে সরোজ মজুমদারের দীর্ঘ পথচলার বিভিন্ন অধ্যায় নিয়েও আলোচনা হয়।

বক্তাদের বক্তব্যে উঠে আসে, তাঁর জীবন ও কর্মের স্মৃতি শুধু পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; গড়বেতার সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গেও তা ওতপ্রোতভাবে জড়িত।এদিন সরোজ মজুমদারের স্মৃতির উদ্দেশ্যে একটি স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করা হয়। সেখানে তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির স্মৃতিচারণ, প্রবন্ধ, কবিতা এবং শ্রদ্ধার্ঘ্য স্থান পেয়েছে। আগামী প্রজন্মের কাছে তাঁর জীবনসংগ্রাম, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সাংস্কৃতিক অবদানের কথা পৌঁছে দেওয়ার উপর গুরুত্ব দেন বক্তারা।অনুষ্ঠানের শেষপর্বে প্রয়াত সরোজ মজুমদারের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। তাঁর জীবন, সংগ্রাম ও সমাজসেবার নানা দিক আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে শেষ হয় স্মরণসভা।