রক্তদানে মানবিকতার বার্তা, তিন বাঙালি বিজ্ঞানীর মূর্তি উন্মোচনে বিজ্ঞানমনস্কতার পাঠ!
অভিজিৎ সাহা : একদিকে মানুষের জীবন বাঁচাতে স্বেচ্ছায় রক্তদান, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা গড়ে তুলতে তিন বাঙালি বিজ্ঞানীর স্মরণ—একই দিনে দুই ভিন্নধর্মী উদ্যোগের সাক্ষী থাকল পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা-৩ ব্লকের নয়াবসত পার্বতীময়ী শিক্ষা নিকেতন। শনিবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত রক্তদান শিবিরের পাশাপাশি আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়, আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু এবং বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসুর আবক্ষ মূর্তি উন্মোচন করা হয়।গ্রীষ্মকালীন সময়ে রক্তের চাহিদা মেটাতে বিদ্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই রক্তদান শিবিরে মোট ৫৫ জন স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন।
শিক্ষক-শিক্ষিকা, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিদ্যালয়ের শুভানুধ্যায়ীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শিবির ঘিরে উৎসাহের পরিবেশ তৈরি হয়। রক্তদাতাদের এই স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে।এদিনের অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তিন বিশিষ্ট বাঙালি বিজ্ঞানীর আবক্ষ মূর্তি উন্মোচন। দেশের বিজ্ঞানচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়, আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু এবং বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু-র স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে তাঁদের মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, এই উদ্যোগের মাধ্যমে পড়ুয়াদের মধ্যে বিজ্ঞানচর্চার প্রতি আগ্রহ, গবেষণামুখী চিন্তাভাবনা এবং দেশের বিজ্ঞান-ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শালবনী বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক বিমান মাহাতো, গড়বেতা-৩ ব্লকের বিডিও দীপাঞ্জন ভট্টাচার্য-সহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। এছাড়াও বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রী এবং এলাকার বহু মানুষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।একই দিনে মানবিকতা ও বিজ্ঞানমনস্কতার এমন যুগল বার্তাকে ঘিরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তৈরি হয় উৎসবের আবহ।
একদিকে মুমূর্ষু রোগীর প্রাণ বাঁচাতে রক্তদান, অন্যদিকে বিজ্ঞানী মনীষীদের অবদান স্মরণ করে নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানচর্চায় উৎসাহিত করার উদ্যোগ—বিদ্যালয়ের এই আয়োজন উপস্থিত সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছে।উদ্যোক্তাদের আশা, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তিন বিজ্ঞানীর আবক্ষ মূর্তি আগামী প্রজন্মের কাছে তাঁদের কৃতিত্ব ও অবদানের স্মারক হয়ে থাকবে। পাশাপাশি তাঁদের জীবন ও কর্ম পড়ুয়াদের বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তাভাবনা, জ্ঞানচর্চা এবং দেশগঠনের কাজে অনুপ্রাণিত করবে।