গ্রুপ শীর্ষে ওঠার লড়াইয়ে মেক্সিকো–দক্ষিণ কোরিয়া

নিজস্ব সংবাদদাতা : ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এ’-তে ১৯ জুন ভোর ৬:৩০ মুখোমুখি হতে চলেছে দুই শক্তিশালী দল মেক্সিকো ও দক্ষিণ কোরিয়া। গুয়াদালাহারা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচকে ঘিরে ইতিমধ্যেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তুমুল উৎসাহ তৈরি হয়েছে। কারণ, দুই দলই নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে এবং এই ম্যাচের ফলাফলই অনেকটা নির্ধারণ করে দিতে পারে গ্রুপের শীর্ষস্থান।বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকো দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল। ম্যাচে ৬১ শতাংশ বলের দখল রেখে প্রতিপক্ষকে কার্যত চাপে রেখেছিল। দলের অভিজ্ঞ তারকা রাউল হিমেনেজ বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল করে নজর কেড়েছেন। অন্যদিকে মাত্র ১৭ বছর বয়সী গিলবার্তো মোরা মেক্সিকোর ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ বিশ্বকাপ ফুটবলার হিসেবে রেকর্ড গড়েছেন।

অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়াও প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে। চেকিয়ার বিরুদ্ধে একসময় ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকলেও শেষ মুহূর্তে দুই গোল করে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় ‘তায়েগুক ওয়ারিয়র্স’। বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ৮০ মিনিটের পরই জয়সূচক গোল করেন ওহ হিয়ন-গ্যু। পরিসংখ্যান বলছে, দুই দলই বলের নিয়ন্ত্রণে দক্ষ। মেক্সিকোর গড় বল দখল ৬১ শতাংশ, যেখানে দক্ষিণ কোরিয়ার ৬২ শতাংশ। ফলে মাঝমাঠের লড়াই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তবে ম্যাচের আগে কিছুটা চাপে রয়েছে মেক্সিকো। প্রথম ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় গুরুত্বপূর্ণ ডিফেন্ডার সিজার মন্তেস এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না। এছাড়া গোলদাতা হুলিয়ান কিনোনেসের চোটও দলের জন্য উদ্বেগের কারণ। ফলে আক্রমণের বড় দায়িত্ব পড়বে অভিজ্ঞ রাউল হিমেনেজের কাঁধে। দক্ষিণ কোরিয়ার শিবিরেও রয়েছে কিছু দুশ্চিন্তা। বে জুন-হো এবং কিম তাই-হিয়ন চোটের কারণে অনিশ্চিত। তবে দলের ভরসা হোয়াং ইন-বম, যিনি ইতিমধ্যেই একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করে দলের অন্যতম সেরা পারফর্মার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। অতীতের রেকর্ডও মেক্সিকোর পক্ষেই কথা বলছে। দুই দলের সর্বশেষ পাঁচ সাক্ষাতের মধ্যে চারটিতেই জয় পেয়েছে মেক্সিকো, একটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপেও দক্ষিণ কোরিয়াকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল এল ত্রি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ কোরিয়া কঠিন প্রতিপক্ষ হলেও স্বাগতিক সমর্থকদের সমর্থন, সাম্প্রতিক দুর্দান্ত ফর্ম এবং অভিজ্ঞতার জোরে মেক্সিকো সামান্য এগিয়ে রয়েছে। তবে দুই দলেরই আক্রমণাত্মক ফুটবল এবং গ্রুপের শীর্ষস্থান দখলের লড়াইয়ের কারণে ম্যাচটি হতে পারে বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় সংঘর্ষ। এখন দেখার বিষয়, মেক্সিকো কি নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে পারে, নাকি দক্ষিণ কোরিয়া আরেকটি চমক দেখিয়ে গ্রুপ ‘এ’-র শীর্ষে উঠে আসে।