বিশ্ব কবিতা দিবসে মেদিনীপুরে মানবিকতার বার্তা—রক্তদান, চুলদান ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে অনন্য উদ্যোগ!

নিজস্ব সংবাদদাতা : বিশ্ব কবিতা দিবসকে কেন্দ্র করে মেদিনীপুরে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগের সাক্ষী থাকল বিদ্যাসাগর স্মৃতি মন্দির। ‘স্বর আবৃত্তি মেদিনীপুর’-এর আয়োজনে প্রখ্যাত আবৃত্তি শিল্পী অনুভব পালের স্মৃতিতে অনুষ্ঠিত হল রক্তদান শিবির, চুলদান কর্মসূচি এবং একাধিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। দুই দিনব্যাপী এই উৎসব কার্যত সমাজসেবা ও সংস্কৃতির এক অনন্য মেলবন্ধন তৈরি করে।অনুষ্ঠানের প্রথম দিন আয়োজিত রক্তদান শিবিরে মোট ৪১ জন রক্তদাতা স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন, যার মধ্যে ১৬ জন ছিলেন মহিলা।

মেদিনীপুর জেলা ভলেন্টারি ব্লাড ডোনার্স ফোরামের সহযোগিতায় আয়োজিত এই শিবিরে রক্তদানের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো।এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সুজয় হাজরা, মদন মোহন মাইতি, চন্দন বসু, ডাঃ সুহাস রঞ্জন মণ্ডল, বিদ্যুৎ পাল, সৌমেন ঘোষ, ডাঃ ত্রিপাঠী সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি।

পাশাপাশি আবৃত্তি, অঙ্কন, হাতের লেখা ও কুইজ সহ নানা সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন মনিকাঞ্চন রায়, নরসিংহ দাস, দীপক বসু, রত্না দে, স্বাগতা পাণ্ডে, অনিন্দিতা শাসমল, ইন্দ্রাণী দাশগুপ্ত, রাহুল নন্দী এবং রুদ্রপ্রসাদ বেরা।ইন্ডিয়া ফার্মাসির উদ্যোগে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবিরও আয়োজন করা হয়, যা স্থানীয় মানুষের কাছে বিশেষ সাড়া ফেলে।

বিশ্ব কবিতা দিবসের দিন আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সম্মানিত করা হয় কবি ও অধ্যাপক ড. সোমনাথ দে-কে।সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জগবন্ধু অধিকারী, জয়ন্ত সাহা, অমিয় পাল, আলোক বরণ মাইতি, সুতনুকা মিত্র মাইতি, চিত্তরঞ্জন দাস, সুদীপ কুমার খাঁড়া, অজয় সাউ, ঈশিতা চট্টোপাধ্যায় ও পায়েল সামন্ত সহ একাধিক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। ‘স্বর আবৃত্তি’-র কচিকাঁচাদের একক ও দলগত পরিবেশনা দর্শকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানের শিল্পী শিবানী পাল, সুপর্ণা কোলে, শিলা মহাপাত্র, মধুশ্রী ঘোষ, রত্না মান্না, সাথী বন্দ্যোপাধ্যায়, কনিকা ধর, দেবশ্রী পণ্ডা ও মিঠু কর্মকারের পরিবেশনা ছিল অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর।এদিন রাহুল নন্দীর পরিচালনায় ‘সৃষ্টি আট একাডেমি’-র আর্ট গ্যালারিরও উদ্বোধন করা হয়।

পাশাপাশি ‘কবিতার দেয়াল’-এ বিশিষ্ট কবিরা নিজেদের কবিতা লিখে অংশগ্রহণ করেন।সংস্থার কর্ণধার শুভদীপ বসু জানান, “মানুষ হিসেবে সমাজের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। গত ছয় বছর ধরে আমরা নিয়মিত রক্তদান শিবির করে আসছি। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে উৎসাহ দিতে এই ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এবছর শতাধিক ছাত্রছাত্রী অংশগ্রহণ করেছে। প্রত্যেক রক্তদাতাকে স্যালুট জানাই এবং সংস্কৃতিপ্রেমী সকলকে শ্রদ্ধা জানাই।