মেদিনীপুরে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন নিয়ে রাজ্যস্তরের কর্মশালা, পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতার বার্তা!

নিজস্ব সংবাদদাতা : মেদিনীপুরের রাজা নরেন্দ্র লাল খান মহিলা কলেজের বি.সি. রায় অডিটোরিয়ামে ২৬ জুলাই, রবিবার পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (EIA) বিষয়ক একটি রাজ্যস্তরের কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। পশ্চিমবঙ্গের ট্রপিক্যাল ইনস্টিটিউট অফ আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (TIEER), মেদিনীপুরের রাজা নরেন্দ্র লাল খান মহিলা কলেজ এবং ঝাড়গ্রামের কাপগাড়ি সেবা ভারতী কলেজের সহযোগিতায় এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক সুশান্ত কুমার চক্রবর্তী,মেদিনীপুর রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাভবন (এইচএস)-এর স্বামী দিব্যানিষ্ঠানন্দ মহারাজ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজা নরেন্দ্র লাল খান উইমেনস কলেজের অধ্যক্ষ ড. স্বপ্না ঘোড়াই,TIEER-এর সভাপতি ড. বিনয় চন্দ, সচিব ড. প্রণব সাহু, এগরা এসএসবি কলেজের অধ্যক্ষ ড. পীযূষ কান্তি ত্রিপাঠী-সহ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী এবং আমন্ত্রিত গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।কর্মশালায় পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নের গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে এর ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বক্তারা জানান, কোনও উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে তার সম্ভাব্য পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে পরিবেশের ক্ষতি হওয়ার আগেই সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করে তা কমানোর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।কর্মশালাটি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই সম্পদ ব্যবস্থাপনার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (EIA)-এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে আলোচনার একটি মূল্যবান মঞ্চ হয়ে ওঠে।

বন উজাড়, বায়ুদূষণ, জলদূষণসহ বিভিন্ন নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে—এমন প্রকল্পগুলিকে পরিবেশবান্ধবভাবে পুনর্নকশা করার সুযোগও তৈরি হয় EIA-এর মাধ্যমে। পাশাপাশি, নির্দিষ্ট ধরনের প্রকল্পের ক্ষেত্রে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন আইনত বাধ্যতামূলক। যথাযথ EIA না করলে জরিমানা, প্রকল্পে বিলম্ব এমনকি প্রকল্প বাতিলের মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।

কর্মশালায় বলা হয়, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নের মূল লক্ষ্য হল কোনও প্রকল্প শুরু হওয়ার আগেই তার সম্ভাব্য পরিবেশগত প্রভাব নির্ধারণ করা, নেতিবাচক প্রভাব কমানো এবং উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা।“পৃথিবী সম্পর্কে তথ্য শুধু সংগ্রহ করলেই হবে না—তা যেন সকলের কাছে বোধগম্য, সহজলভ্য এবং কার্যকর হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।”