জয় জগন্নাথ ধ্বনিতে মুখর মেদিনীপুর, ঐতিহ্যের আবহে শুরু রথযাত্রা উৎসব!
নিজস্ব সংবাদদাতা : মেদিনীপুরে জগন্নাথদেবের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রাকে ঘিরে ভক্তদের উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। বৃহস্পতিবার আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, কীর্তন এবং ভক্তদের বিপুল সমাগমের মধ্য দিয়ে শুভ সূচনা হলো রথযাত্রা উৎসবের। শহরজুড়ে শোনা গেল ‘জয় জগন্নাথ’ ধ্বনি, আর মন্দির চত্বরে তৈরি হলো এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশ।রথযাত্রা উপলক্ষে মেদিনীপুরের জগন্নাথ মন্দিরকে আকর্ষণীয়ভাবে সাজানো হয়েছে। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্তদের ভিড় ক্রমশ বাড়তে থাকে। রথযাত্রার দিনও বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্ত ও দর্শনার্থী সমবেত হন প্রভুর দর্শন এবং রথের দড়িতে টান দেওয়ার জন্য।
মেদিনীপুরের এই জগন্নাথ মন্দিরকে ঘিরে রয়েছে বহু বছরের ঐতিহ্য ও লোককথা। জনশ্রুতি অনুযায়ী, বাংলা ১২৬২ সালে মল্লিকবাড়ির জমিদার জন্মেজয় মল্লিক স্বপ্নাদেশ পান প্রভু জগন্নাথের। সেই নির্দেশ মেনে তিনি নদীর তীর থেকে নিমকাঠ সংগ্রহ করে জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার বিগ্রহ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এরপর থেকেই এই মন্দিরকে কেন্দ্র করে শুরু হয় নিয়মিত পূজা ও রথযাত্রার প্রচলন।দীর্ঘদিন ধরে মন্দিরের সেবাইতরাই সমস্ত আচার-অনুষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করতেন। পরবর্তীকালে গঠিত হয় শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দির সংস্কার কমিটি। ২০০২ সালে এই কমিটি সরকারি স্বীকৃতি লাভের পর থেকে রথযাত্রার আয়োজন আরও সুসংগঠিত ও জাঁকজমকপূর্ণ হয়ে ওঠে।
মেদিনীপুরের রথযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ তিনটি সুসজ্জিত রথ—নন্দীঘোষ, দেবদলন এবং তালধ্বজ। প্রতিবছরের মতো এ বছরও এই তিনটি রথ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পথ পরিক্রমা করবে। রথের দড়ি স্পর্শ ও টান দেওয়াকে পুণ্যলাভের প্রতীক মনে করে হাজার হাজার ভক্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
ভক্তদের বিপুল সমাগমের কথা মাথায় রেখে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রথের যাত্রাপথে পুলিশ মোতায়েন, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্য পরিষেবা, পানীয় জল এবং অন্যান্য নাগরিক সুবিধারও বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় এই ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় উৎসব। প্রতি বছরের মতো এবারও মেদিনীপুরের রথযাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং শহরের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনোৎসবে পরিণত হয়েছে।