বিজ্ঞানকে জানার নতুন পথ, নরেন্দ্রলাল খান মহিলা মহাবিদ্যালয়ে তিন দিনব্যাপী সামার সায়েন্স ওয়ার্কশপ!
নিজস্ব সংবাদদাতা : বিজ্ঞানকে পাঠ্যবইয়ের গণ্ডি থেকে বের করে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ করে দিতে সম্প্রতি মেদিনীপুর সায়েন্স সেন্টারের উদ্যোগে রাজা নরেন্দ্রলাল খান মহিলা মহাবিদ্যালয়ে আয়োজিত হলো তিন দিনব্যাপী ‘এক্সপ্লোরেশন সামার সায়েন্স ওয়ার্কশপ-২০২৬’। বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষার্থী তৈরির লক্ষ্যে আয়োজিত এই কর্মশালায় অংশ নেয় জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা।
কর্মশালার উদ্বোধন করেন আইআইটি খড়্গপুরের ওসেন, রিভার, অ্যাটমোস্ফিয়ার অ্যান্ড ল্যান্ড সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. অরুণ চক্রবর্তী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজা নরেন্দ্রলাল খান মহিলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষা ড. স্বপ্না ঘোড়াই, মেদিনীপুর কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ও সায়েন্স সেন্টারের সভাপতি ড. গোপালচন্দ্র বেরা, সায়েন্স সেন্টারের সম্পাদক তথা মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুল (বালক)-এর প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক সুচাঁদ কুমার পান-সহ পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও জীববিদ্যার বিশিষ্ট শিক্ষক, গবেষক এবং বিজ্ঞানীরা।
তিন দিনের এই কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের জন্য পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও জীববিদ্যার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে হাতে-কলমে পরীক্ষানিরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। বিজ্ঞান শিক্ষাকে আরও আকর্ষণীয় ও বাস্তবভিত্তিক করে তুলতেই এই উদ্যোগ বলে জানান আয়োজকরা।
‘মিট দ্য সায়েন্টিস্ট’ পর্বে আইআইটি খড়্গপুরের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. দিলীপ কুমার প্রতিহার রোবোটিক্সে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) প্রয়োগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পাশাপাশি ডিআরডিও, নয়াদিল্লির প্রাক্তন গবেষক ড. মন্টু সাহা প্রতিরক্ষা গবেষণার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সম্ভাবনা ও অংশগ্রহণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. দেবকুমার বেরা ও ড. অর্ণব সাধু ক্লাউড কম্পিউটিং এবং এআই অ্যাপ্লিকেশনের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচিত করানোর ক্ষেত্রে এই সেশনগুলি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের গোপ কলেজের বায়োডাইভার্সিটি অঞ্চল পরিদর্শন করানো হয়। সেখানে স্থানীয় উদ্ভিদ ও প্রাণীজগত সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। পরিবেশ সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব সম্পর্কেও শিক্ষার্থীদের সচেতন করা হয়।কর্মশালার শেষ দিনে ড. স্বদেশ রঞ্জন বেরা এবং ড. কৌশিক নন্দ শিক্ষার্থীদের সামনে রোবোটিক্সের প্রাথমিক মডেল তৈরির কৌশল প্রদর্শন করেন এবং হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেন।সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা তাদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেয়। তারা জানায়, শ্রেণিকক্ষের বাইরে এসে বাস্তবভিত্তিক বিজ্ঞানচর্চার সুযোগ তাদের নতুনভাবে ভাবতে এবং শিখতে উৎসাহিত করেছে। অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত বিশিষ্টজনদের হাত দিয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সায়েন্স সেন্টারের যুগ্ম সম্পাদক তথা মেদিনীপুর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রলয় কান্তি সাঁতরা বলেন, “এই কর্মশালাকে সফল করতে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বহু শিক্ষক, গবেষক ও প্রকৌশলী নিরলস পরিশ্রম করেছেন। তাঁদের সকলকে সংস্থার পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাই।”সায়েন্স সেন্টারের সম্পাদক সুচাঁদ কুমার পান বলেন, “এই কর্মশালার মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানচর্চার আগ্রহ বৃদ্ধি করা এবং গবেষণামুখী চিন্তাভাবনার বিকাশ ঘটানো। আমরা বিশ্বাস করি, এখানে অর্জিত অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে তাদের নতুন বিষয় জানার আগ্রহ আরও বাড়িয়ে তুলবে এবং বিজ্ঞান গবেষণার পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে।”