“ভোটে দাঁড়ানোর ইচ্ছে নেই, তৃণমূলেই আছি”—তমলুকে বিস্ফোরক মন্তব্য বিধায়ক সৌমেন মহাপাত্রের!
নিজস্ব সংবাদদাতা: পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক রাজনীতিতে ফের জোর চর্চা শুরু হয়েছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে শাসকদল তৃণমূলের অন্দরে অশান্তির জল্পনা তীব্র হচ্ছে। এই আবহেই একাধিক ইস্যুতে মুখ খুলে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তমলুকের তৃণমূল বিধায়ক ও প্রাক্তন মন্ত্রী Soumen Mahapatra। বিগত কয়েক মাস ধরেই রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল—দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাঁকে খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। বিরোধীদের দাবি, দলের অন্দরে গুরুত্ব কমে যাওয়াতেই তিনি অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। এমনকি তাঁর নিরাপত্তা কমিয়ে দেওয়ার ঘটনাও সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছিল।এই পরিস্থিতিতে ১২ মার্চ বৃহস্পতিবার বিকেলে পাঁশকুড়ার মেছোগ্রামে সাংবাদিক বৈঠক করে সমস্ত জল্পনার জবাব দেন সৌমেন মহাপাত্র। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, তিনি অতীতেও তৃণমূলে ছিলেন, এখনও আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। তবে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে তাঁর ব্যক্তিগত কোনও আগ্রহ নেই বলেই জানিয়েছেন তিনি।
সৌমেনবাবু বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ। ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর বাড়ির বাথরুমে পড়ে তাঁর পা ভেঙে যায় এবং এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নির্বাচনে দাঁড়ালে ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ করতে হয়, যা এই মুহূর্তে তাঁর পক্ষে সম্ভব নয় বলেই জানান তিনি। যদিও প্রার্থী হওয়া না হওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ দলের সিদ্ধান্ত বলেও উল্লেখ করেন তমলুকের বিধায়ক। তবে এদিন কথার ফাঁকেই কিছুটা ক্ষোভও প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর দাবি, তিনি এখনও তমলুকের বিধায়ক হলেও অনেক কর্মসূচিতে তাঁকে ডাকা হয় না।
যদিও সেই ক্ষোভের মধ্যেও দলীয় কর্মী ও নেতৃত্বের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়ে বলেন, এবারের নির্বাচন অত্যন্ত কঠিন লড়াই হতে চলেছে। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করতে হবে এবং Mamata Banerjee-এর হাতকে আরও শক্ত করতে হবে।নিজের নিরাপত্তা তুলে নেওয়া প্রসঙ্গে সৌমেন মহাপাত্র জানান, এই বিষয়টি স্বরাষ্ট্র দফতরের অধীনে। তাঁর বক্তব্য, নিরাপত্তা প্রত্যাহারের আগে যদি তাঁকে জানানো হত, তাহলে ভালো লাগত।এছাড়াও তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে প্রতিপক্ষ আগের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী। বিভিন্ন নতুন রাজনৈতিক শক্তি ও সংগঠন ভোটের ময়দানে নেমেছে, ফলে লড়াই আরও কঠিন হবে।
তবে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তিনি স্পষ্ট করে দেন—তিনি দল ছাড়ছেন না। অন্য কোনও রাজনৈতিক দল থেকেও তাঁকে যোগদানের প্রস্তাব দেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি। রাজনীতিতে তিনি এখনও তৃণমূলের একজন সাধারণ কর্মী হিসেবেই কাজ করে যেতে চান।