লাভপুরে ফিরেই তৃণমূলকে তোপ মনিরুল ইসলামের, সংখ্যালঘু ভোটে নজির গড়ার দাবি বিজেপি নেতার!

নিজস্ব সংবাদদাতা : দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর বীরভূমের লাভপুরের মাটিতে পা রাখতেই তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিজেপি নেতা মনিরুল ইসলাম। সোমবার তাঁর এই প্রত্যাবর্তন ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।২০১৯ সালে দিল্লিতে গিয়ে বিজেপিতে যোগদান করেছিলেন একদা তৃণমূলের প্রভাবশালী এই নেতা। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকেই সংখ্যালঘু মুখ হিসেবে বড় চমক হিসেবে তুলে ধরছে বিজেপি। লাভপুরে পৌঁছেই মনিরুলের দাবি, এবারের নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক সংখ্যালঘু ভোট বিজেপির ঝুলিতে যাবে, যা রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন নজির গড়বে।রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে ফরওয়ার্ড ব্লকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মনিরুল ইসলাম। পরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়ে ২০১১ সালে লাভপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রথমবার জয়ী হন। ২০১৬ সালেও একই কেন্দ্র থেকে জিতে বিধায়ক হন তিনি। তবে সময়ের সঙ্গে তৎকালীন বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে থাকে। শেষপর্যন্ত বিধায়ক থাকাকালীনই তৃণমূল ছেড়ে দেন মনিরুল।২০১৯ সালের ২৯ মে দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন তিনি। যদিও অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে বিরোধ এবং একটি খুনের মামলায় আদালতের নির্দেশের কারণে দীর্ঘদিন লাভপুরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল তাঁর উপর। বর্তমানে সেই নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় ভোটের আগে আবারও এলাকায় সক্রিয় হলেন তিনি।সোমবার লাভপুরে তাঁর আগমন ঘিরে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। ফুল-মালা, পতাকা ও স্লোগানে তাঁকে বরণ করে নেন বিজেপি কর্মীরা।এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, “এবার রেকর্ড সংখ্যক সংখ্যালঘু ভোট পাবে বিজেপি প্রার্থী, যা রাজ্যে নজির তৈরি করবে। লাভপুর থেকেই ৫০ হাজার ভোটে লিড হবে।” একইসঙ্গে তিনি তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুদের ‘ব্যবহার’ করার অভিযোগ তুলে কড়া সমালোচনা করেন। ইমাম ও মোয়াজ্জেম ভাতা নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি দাবি করেন, এতে সংখ্যালঘুদের সম্মানহানি হয়েছে। পাশাপাশি মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগও তোলেন তিনি।মনিরুলের এই বিস্ফোরক মন্তব্যে ইতিমধ্যেই সরগরম হয়ে উঠেছে বীরভূমের রাজনৈতিক মহল। ভোটের মুখে তাঁর এই প্রত্যাবর্তন ও আক্রমণাত্মক সুর কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেটাই দেখার।