বর্ষা শুরু, তবুও খাল পরিষ্কার হয়নি! পূর্ব মেদিনীপুরে জলনিকাশী নিয়ে উদ্বেগ,সেচ দপ্তরে বন্যা প্রতিরোধ কমিটির চাপ...
নিজস্ব সংবাদদাতা : বর্ষা শুরু হলেও পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অধিকাংশ নিকাশী খাল এখনও কচুরিপানা ও আবর্জনায় ভরতি। ফলে ভারী বৃষ্টির সময় জলনিকাশী ব্যাহত হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত খাল পরিষ্কারের দাবিতে ফের সরব হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা বন্যা ভাঙন প্রতিরোধ কমিটি। কমিটির দাবি, বর্ষা শুরুর আগেই জেলার সমস্ত নিকাশী খাল পরিষ্কারের জন্য সেচ দপ্তরের বিভিন্ন আধিকারিকের কাছে লিখিতভাবে আবেদন জানানো হয়েছিল। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী জুন মাসের প্রথম সপ্তাহেই বর্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এ বছর প্রায় এক মাস দেরিতে বর্ষা আসে। কিন্তু সেই অতিরিক্ত সময় পাওয়ার পরও অধিকাংশ খাল পরিষ্কারের কাজে সেচ দপ্তর কার্যকরভাবে হাত দিতে পারেনি বলে অভিযোগ। বর্তমানে তমলুক ডিভিশনের অধীন দেহাটি, মেছেদা-বাঁপুর এবং টু মেন ক্যানেল—এই তিনটি খাল পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য প্রায় ২৯ লক্ষ ১১ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং ওয়ার্ক অর্ডার জারি হওয়ার পর দেহাটি খালে গত প্রায় এক মাস ধরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। তবে জেলার নিউ কাঁসাই-চন্ডীয়া নদী, সোয়াদিঘী, গঙ্গাখালি, জঁফুলি, টোপা ড্রেনেজ কাট, হিজলি টাইড্যাল ক্যানেল-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নদী ও খালে এখনও কচুরিপানা ও আবর্জনা অপসারণের কাজ শুরু হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি পূর্ব মেদিনীপুর জেলা বন্যা ভাঙন প্রতিরোধ কমিটির পক্ষ থেকে জেলার সেচ দপ্তরের আধিকারিকদের কাছে একটি ডেপুটেশন জমা দেওয়া হয়। সেই বৈঠকে দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলার ২টি নদী ও ৪১টি খাল পরিষ্কারের জন্য মোট ২ কোটি ২১ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা ব্যয়ের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। খুব শীঘ্রই ওয়ার্ক অর্ডার জারি করা হবে। ওয়ার্ক অর্ডার প্রকাশের পর ঠিকাদার সংস্থাগুলি দ্রুত খাল পরিষ্কারের কাজে নামবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র নায়ক বলেন, "আমরা বর্ষার আগেই খাল পরিষ্কারের কাজ শুরু করার আবেদন জানিয়েছিলাম। তাহলে সরকারের ব্যয় যেমন কম হতো, তেমনই কাজও আরও কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা যেত। এখন খালে জল ভরে যাওয়ার পর কচুরিপানা পরিষ্কার করলেও অল্পদিনের মধ্যেই তা আবার ছড়িয়ে পড়বে এবং জল নিকাশীতে বাধা সৃষ্টি করবে। তাই দ্রুততার সঙ্গে কাজ শেষ করার পাশাপাশি ঠিকাদারদের কাজের ওপর কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। খালের সমস্ত কচুরিপানা, জঞ্জাল ও আবর্জনা সম্পূর্ণভাবে পরিষ্কার করে বাঁধের ওপর তুলে ফেলতে হবে।"