ছেলেকে বাঁচিয়ে আর ফিরলেন না মা, ঘাগরার জলে মিলল প্রীতির দেহ

নিজস্ব সংবাদদাতা:ছেলেকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনতে পেরেছিলেন। কিন্তু নিজের আর ফেরা হল না। প্রবল স্রোতে ভেসে যাওয়ার প্রায় একদিন পর ঘাগরা জলপ্রপাত থেকে উদ্ধার হল বারুইপুরের গৃহবধূ প্রীতি দত্তের দেহ। রবিবার সন্ধ্যায় পাথরের খাঁজের গভীর খাদ থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করেন বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও ডুবুরি দলের সদস্যরা।৩৪ বছরের প্রীতি দত্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের হরিহরপুর পঞ্চায়েতের বেনিয়াডাঙা বর্ধনপাড়ার বাসিন্দা। স্বামী রাজদীপ দত্ত এবং সাত বছরের ছেলে প্রিয়ঙ্কনকে নিয়ে তিন দিনের ঝাড়গ্রাম সফরে এসেছিলেন তিনি।শনিবার বেলপাহাড়ির ঘাগরা জলপ্রপাত ঘুরতে গিয়েছিল পরিবারটি। জলপ্রপাতের কাছে ছবি তোলার সময় আচমকাই জলে পড়ে যায় প্রিয়ঙ্কন। ছেলেকে বাঁচাতে মুহূর্তের মধ্যে জলে ঝাঁপ দেন রাজদীপ ও প্রীতি। কোনওরকমে ছেলে প্রিয়ঙ্কনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও তীব্র স্রোত প্রীতিকে টেনে নিয়ে যায়।এরপরই শুরু হয় তল্লাশি। শনিবার রাত থেকে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল খোঁজ চালালেও তাঁর সন্ধান মেলেনি। রবিবার ভোর ৫টা নাগাদ ফের শুরু হয় ব্যাপক অভিযান। এসডিআরএফ, এনডিআরএফ, পুলিশ, দমকলের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা এবং পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে আসা ডুবুরি দলও তল্লাশিতে নামে।জলের স্রোত অত্যন্ত বেশি থাকায় উদ্ধারকাজে বারবার বাধা তৈরি হয়। ঘাগরা জলপ্রপাত থেকে তারাফেনী ব্যারাজের দিকেও নজরদারি চালানো হয়। শেষপর্যন্ত সন্ধ্যার দিকে ঘটনাস্থলের কাছেই একটি খাদে পাথরের খাঁজের মধ্যে প্রীতির দেহ আটকে থাকার সন্ধান পান উদ্ধারকারীরা। ঝাড়গ্রামের পুলিশ সুপার মানব সিংলা জানান, প্রীতি যেখানে জলে পড়েছিলেন, সেখানেই একটি খাদে তাঁর দেহ আটকে ছিল। জেলাশাসক আকাঙ্খা ভাস্কর জানান, ভোর থেকেই এসডিআরএফ ও এনডিআরএফ-এর দল উদ্ধারকাজে নামে। প্রবল স্রোতের কারণে কাজ কঠিন হয়ে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত দেহ উদ্ধার সম্ভব হয়েছে।ঘটনার পর থেকে দত্ত পরিবারের পাশে রয়েছে প্রশাসন। পুলিশ জানিয়েছে, প্রীতির ছেলে প্রিয়ঙ্কন সুস্থ রয়েছে।এই দুর্ঘটনার পর ফের প্রশ্ন উঠেছে ঘাগরা জলপ্রপাতের পর্যটক নিরাপত্তা নিয়ে। ঝাড়গ্রাম জেলা হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মধুসূদন কর্মকার প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।বিনপুরের বিধায়ক প্রণত টুড জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, তার জন্য জলপ্রপাতের বিপজ্জনক অংশ রেলিং দিয়ে ঘেরার পাশাপাশি সতর্কতামূলক বোর্ড ও মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে।জানা গিয়েছে, কলকাতার একটি পর্যটন সংস্থার ৩৬ জনের দলের সঙ্গে ঝাড়গ্রামে এসেছিলেন রাজদীপ, প্রীতি ও তাঁদের ছেলে। শুক্রবার ঝাড়গ্রামে পৌঁছন তাঁরা। শনিবার বেলপাহাড়ি ঘুরতে গিয়েই ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। ছেলেকে বাঁচিয়ে গেলেও শেষরক্ষা হল না মায়ের। ঘাগড়ার জল কেড়ে নিল প্রীতির প্রাণ।