নরেন্দ্রপুর থানার নাজিরাবাদ এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ৪২ ঘণ্টা পর আটক গোডাউনের মালিক গঙ্গাধর দাস!

নিজস্ব সংবাদদাতা : নরেন্দ্রপুর থানার নাজিরাবাদ এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের মৃত্যুমিছিল আরও বাড়ল। সোমবার (২৬শে জানুয়ারি) ভোর তিনটে নাগাদ আনন্দপুরে অবস্থিত ওয়াও মোমো, অনলাইন ফুড ডেলিভারি সংস্থার পরপর দুটো গোডাউন পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। এই বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত আটজনের দেহাংশের হদিশ মিলেছে। আরও ২০ জনের পরিবার নিখোঁজ অভিযোগ করেছেন। এই ঘটনায় এখনও ভস্মীভূত গুদামের ভাঙা কারশেডের নিচে আরও কর্মীদের দেহ আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এই ঘটনার ৪২ ঘন্টা পর অবশেষে গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাসকে আটক করল নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রের খবর, নাজিরাবাদের দু'টি গুদামে আগুন লেগে এখনও অন্তত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মোমো তৈরির কারখানার আড়ালে অবৈধ কোল্ড ড্রিঙ্কস তৈরির কাজ?

তাঁদের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু, তাঁদের এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এদিকে গুদামের ভিতরে এখনও আগুন জ্বলছে। আগুন লাগার পর থেকেই নিখোঁজ এখনও অন্তত ২০ জন শ্রমিক।  প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়ার শ্রীকৃষ্ণ মাইতি, বাপন মাঝি, সমরেশ পথিকর, তপন দোলুই, ময়নার বুদ্ধদেব জানা, সৌমিত্র মণ্ডল, তমলুক ব্লকের বাসিন্দা দেবাদিত্য দিন্দা, বিমল মাইতি, গোবিন্দ মণ্ডল, রামপদ মণ্ডল, ক্ষুদিরাম দিন্দা, শশাঙ্ক জানা, নন্দকুমারের বরগোদা এলাকার বাসিন্দা সন্দীপ মাইতি- সহ অন্তত ২০ জন এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন বলে দাবি।জানা গিয়েছে, মৃত বা নিখোঁজ সকলেই পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪পরগনা জেলার বাসিন্দা। গুদাম মালিকের বিরুদ্ধে একাধিক গাফিলতির অভিযোগ রয়েছে। এরম একটা গোডাউনে এতগুলি শ্রমিক কাজ করতেন, অথচ সেখানে কোনও অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র নেই। বাইরে বেরোনোর পথও নেই। দমকলের তরফে নরেন্দ্রপুর থানায় অভিযুক্তর বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে । স্থানীয়দের দাবি আরও বিস্ফোরক। মোমো তৈরির কারখানার আড়ালে চলত অবৈধ কোল্ড ড্রিঙ্কস তৈরির কাজ। সেই কারণেই প্রচুর দাহ্য পদার্থ মজুত করা ছিল বলে অভিযোগ। এমনকি জলাশয় বুজিয়ে গড়ে তোলা হয়েছিল গোডাউন, এই অভিযোগও ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। সব মিলিয়ে এই জতুগৃহকে কেন্দ্র করে স্পষ্ট হয়ে উঠছে প্রশাসনিক নজরদারির গাফিলতি আর চরম অব্যবস্থা।