নয়াদিল্লিতে জাতীয় স্বীকৃতি, মেদিনীপুরের অনিমা মেট্যার ঝুলিতে ৯ম BMO অ্যাওয়ার্ড ২০২৬

নিজস্ব সংবাদদাতা: দেশের দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক চর্চার মানচিত্রে এবার উজ্জ্বল হয়ে উঠল মেদিনীপুরের নাম। ২০২৬ সালের ২৬শে ফেব্রুয়ারি নয়াদিল্লির প্রখ্যাত হোটেল The Ashok-এ অনুষ্ঠিত ৯ম রেসপনসিবল বিজনেস মেম্বারশিপ অর্গানাইজেশন (BMO) অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠানে সম্মানিত হলেন মেদিনীপুরের কৃতি মহিলা অনিমা মেট্যা। এই মর্যাদাপূর্ণ আয়োজনটি মূলত দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সেইসব বিজনেস মেম্বারশিপ অর্গানাইজেশন (BMO)-গুলিকে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত হয়, যারা দায়িত্বশীল ও স্বচ্ছ ব্যবসায়িক আচরণের মাধ্যমে সমাজ ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

(BMO) অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠানে সম্মানিত হলেন মেদিনীপুরের কৃতি মহিলা অনিমা মেট্যা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ গুরুত্ব পায় ‘গ্রিন ফাইন্যান্সিং’ বা সবুজ অর্থায়ন এবং টেকসই এমএসএমই (MSME) গড়ে তোলার কৌশল। বিশেষজ্ঞদের প্যানেল আলোচনায় উঠে আসে পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব এবং দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক নীতির বাস্তব প্রয়োগের দিকগুলি। বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট ভাষায় জানান, শুধু মুনাফা নয়— পরিবেশ রক্ষা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং সুশাসন এখন ব্যবসার অবিচ্ছেদ্য অংশ। গ্রিন ফাইন্যান্সিং ছাড়া ভবিষ্যতের শিল্প কাঠামো টেকসই হবে না বলেও মত প্রকাশ করা হয়। এবারের পুরস্কার প্রাপকদের তালিকায় স্থান পাওয়া অনিমা মেট্যা মেদিনীপুরের সামাজিক ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক মডেল গড়ে তোলা এবং স্থানীয় স্তরে নারী নেতৃত্বকে শক্তিশালী করার জন্য তাঁর উদ্যোগ বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। জাতীয় মঞ্চে এই স্বীকৃতি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং মেদিনীপুর জেলার সামগ্রিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগেরও স্বীকৃতি বলেই মনে করছেন বিশিষ্টজনেরা।

এই অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠানটি ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জুড়ে দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক চর্চাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ডিজাইন করা হয়েছে। উদ্যোক্তা ও সংগঠনগুলিকে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে— ভবিষ্যতের ব্যবসা হবে পরিবেশবান্ধব, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সামাজিকভাবে দায়বদ্ধ। মেদিনীপুরের অনিমা মিত্রার এই সাফল্য নিঃসন্দেহে জেলার তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। দায়িত্বশীল ব্যবসার পথে এগোতে চাইলে সাহস, স্বচ্ছতা ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গিই যে মূল চাবিকাঠি— তা আবারও প্রমাণিত হল জাতীয় মঞ্চে।