তরুণ প্রজন্মকে টানতে খড়গপুর আইআইটি ক্যাম্পাসে ‘এন-জেন’ ডাকঘর, বদলাচ্ছে ডাক পরিষেবার চেহারা!

অরিন্দম চক্রবর্তী :সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিকতার পথে আরও এক ধাপ এগোল ‘ইন্ডিয়া পোস্ট’। তরুণ প্রজন্মকে ডাক পরিষেবার সঙ্গে আরও বেশি করে যুক্ত করতে পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুর আইআইটি ক্যাম্পাসে থাকা ডাকঘরকে রূপান্তরিত করা হল অত্যাধুনিক ‘এন-জেন’ পোস্ট অফিসে। শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই নতুন রূপের উদ্বোধন হয়। জেলার মধ্যে এটিই প্রথম ‘এন-জেন’ পোস্ট অফিস।‘এন-জেন’ অর্থাৎ ‘নেক্সট জেনারেশন’ পোস্ট অফিসের মূল লক্ষ্য হল তরুণ প্রজন্মের কাছে ডাকঘরের পুরনো ধারণা বদলে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও গ্রাহকবান্ধব পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া। এর আগে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং বারাসাতের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে থাকা ডাকঘরকে ‘এন-জেন’ মডেলে রূপান্তরিত করা হয়েছে।

নতুন সাজে খড়গপুর আইআইটি ক্যাম্পাসের ডাকঘরে থাকছে ক্যাফেটেরিয়ার ধাঁচে বসার ব্যবস্থা, কফি মেশিন, ওয়াই-ফাই, ছোট পাঠাগার এবং ইউপিআই-এর মাধ্যমে লেনদেনের মতো একাধিক আধুনিক সুবিধা। শুধু পরিষেবার ক্ষেত্রেই নয়, সাজসজ্জাতেও থাকছে বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতির ছোঁয়া। ডাকঘরের দেওয়ালে স্থান পেয়েছে পিংলার পটচিত্র, রাঢ়বঙ্গের ছৌ এবং ঝুমুরের মতো লোকশিল্প ও সংস্কৃতির বিভিন্ন চিত্র।

বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে নতুন ‘এন-জেন’ পোস্ট অফিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন আইআইটি খড়গপুরের ডিরেক্টর সুমন চক্রবর্তী। অনুষ্ঠানের মুখ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়েস্ট বেঙ্গল সার্কেলের চিফ পোস্টমাস্টার জেনারেল অশোক কুমার। তিনি বলেন, “নবপ্রজন্মের কাছে ডাকঘর মানেই একটি পুরনো ও অন্ধকার কাঠামো—এমন একটি ধারণা রয়েছে। সেই ধারণা বদলে সময়োপযোগী আধুনিক সুযোগ-সুবিধায় সমৃদ্ধ ডাকঘর গড়ে তোলাই ‘এন-জেন’ পোস্ট অফিসের উদ্দেশ্য।” ডাক পরিষেবার বিস্তারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি আরও বলেন, “শরীরের হৃদপিণ্ডের মাধ্যমে রক্ত যেমন প্রতিটি কোষে পৌঁছে যায়, তেমনই ডাক ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই দেশের ১৪২ কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছে। এবার সেই ব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষ আরও উন্নত পরিষেবা পাবেন।”

অনুষ্ঠানে সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাউথ বেঙ্গল রিজিয়নের পোস্টমাস্টার জেনারেল রিজু গাঙ্গুলী। তিনি জানান, আগামী দিনে রাজ্যের আরও কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে ‘এন-জেন’ পোস্ট অফিস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে হলদিয়া গভর্নমেন্ট কলেজ, বরানগর কলেজ, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় এবং কল্যাণীর বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। ডাক পরিষেবায় প্রায় ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইআইটি খড়গপুরের রেজিস্ট্রার অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল। তিনি বলেন, “যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডাকঘরের এই পরিবর্তন সত্যিই প্রয়োজনীয়।”এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মেদিনীপুর ডিভিশনের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পোস্ট অফিস মৃত্যুঞ্জয় বেরা-সহ ডাক বিভাগের আধিকারিক ও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। আকাশ দাসের কণ্ঠে ‘হে মোর চিত্তে...’ গান দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন প্রদীপ দত্ত।প্রযুক্তি, আধুনিক পরিষেবা এবং বাংলার লোকসংস্কৃতির মেলবন্ধনে খড়গপুর আইআইটি ক্যাম্পাসের এই ‘এন-জেন’ পোস্ট অফিস তরুণ প্রজন্মের কাছে ডাক পরিষেবাকে নতুনভাবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেই মনে করছে ডাক বিভাগ।