রাজনীতির ঝড়ে থামেনি মানবতা—নীরব লড়াইয়ে এক প্রাণ বাঁচালেন নিলাদ্রি বন্দ্যোপাধ্যায়!

নিজস্ব সংবাদদাতা : ক্ষমতার পালাবদলের আবহে নিঃশব্দ মানবিকতার নজির, সময়ের সঙ্গে দৌড়ে ফিরল এক তরুণের জীবন! ৪ঠা মে—রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড়সড় পরিবর্তনের দিন। রঙ বদলেছে, স্লোগান বদলেছে, রাস্তায় নেমেছে উচ্ছ্বাস আর উত্তেজনা। কিন্তু সেই আবহের মাঝেই ঘটে গেল এক অন্য গল্প—যেখানে রাজনীতি নয়, জয় হল মানবতার।৪ঠা মে সন্ধ্যায় বাগনান-এর এক প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে ভেসে আসে অসহায় আর্তনাদ। মাত্র ২৫ বছরের এক যুবক, লিভারের গুরুতর অসুখে আক্রান্ত, অক্সিজেন মাস্কে ভর করে অ্যাম্বুলেন্সে ছুটছে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে। কিন্তু প্রতিটা জায়গা থেকে একটাই উত্তর—“বেড নেই।”সময় তখন হাতছাড়া হওয়ার মুখে।

অ্যাম্বুলেন্সের অক্সিজেনও প্রায় শেষ। প্রতিটি মুহূর্ত যেন মৃত্যুর দিকে আরও একধাপ এগিয়ে যাওয়ার সাক্ষী।ঠিক সেই সময় শেষ আশার আলো হয়ে সামনে আসেন যুব সমাজকর্মী নিলাদ্রি বন্দ্যোপাধ্যায়।না ছিল কোনও প্রচার, না ছিল কোনও রাজনৈতিক পরিচয়—ছিল শুধু একটাই লক্ষ্য, একটা প্রাণ বাঁচানো।পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে মুহূর্তের মধ্যে তিনি যোগাযোগ করেন এসএসকেএম হাসপাতাল-এর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। সময়ের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু হয়। অনুরোধ, চাপ, দায়িত্ব—সব একসঙ্গে নিয়ে তিনি এগিয়ে যান।অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি—মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই খুলে যায় হাসপাতালের দরজা। ভর্তি হয়ে যায় সেই যুবক। অ্যাম্বুলেন্সের অক্সিজেন শেষ হওয়ার আগেই ফিরে আসে শ্বাস, ফিরে আসে জীবন।যখন চারদিকে রাজনৈতিক সমীকরণ আর দলবদলের অঙ্ক কষা চলছে, ঠিক তখনই এই ঘটনা নিঃশব্দে মনে করিয়ে দিল—সবচেয়ে বড় পরিচয় “মানুষ”।নিলাদ্রি কোনও দলের প্রতিনিধি নন, কিন্তু মানুষের পাশে থাকা এক নির্ভরযোগ্য নাম। কোনও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু নন, কিন্তু বিপদের মুহূর্তে এক অনিবার্য উপস্থিতি।