ব্রিজ নেই, আমোদর নদ পারাপারে চরম দুর্ভোগ কোতুলপুরের পলাশবনের ১৬০০ আদিবাসীর
প্রেমচাঁদ ফৌজদার: ব্রিজ নেই, নেই স্থায়ী সেতু কিংবা বাসের সাঁকো। ফলে বর্ষা এলেই আমোদর নদ পারাপার কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। নদীর ওপারে থাকা নিজেদের চাষের জমিতে পৌঁছতে না পেরে চরম সমস্যায় পড়েন বাঁকুড়ার কোতুলপুর ব্লকের লেগো অঞ্চলের পলাশবন গ্রামের আদিবাসী বাসিন্দারা।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পলাশবন গ্রামে প্রায় ১০-১২টি পাড়া রয়েছে। দুটি বুথ মিলিয়ে এলাকায় প্রায় ১৬০০ জন আদিবাসী মানুষের বসবাস। তাঁদের অধিকাংশই কৃষিকাজের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া আমোদর নদীর উপর কোনও ছোট সেতু বা স্থায়ী সাঁকো না থাকায় প্রতিদিনই তাঁদের যাতায়াতে সমস্যায় পড়তে হয়।গ্রামবাসীদের দাবি, নদীর ওপারেই তাঁদের অধিকাংশ চাষের জমি। সেখানে ধান, আলু, বিভিন্ন ধরনের কাঁচা আনাজ-সহ নানা ফসল উৎপাদন করেন তাঁরা। সেই ফসল বাজারে বিক্রি করেই চলে বহু পরিবারের সংসার। কিন্তু বর্ষাকালে নদীতে জল বেড়ে গেলে পারাপার কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে জমিতে যাওয়া, ফসল তোলা এবং বাজারে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করা—সবকিছুতেই তৈরি হয় বড় বাধা।এর জেরে অনেক সময় জমিতেই নষ্ট হয়ে যায় কাঁচা আনাজ। কৃষকদের অভিযোগ, সময়মতো ফসল বাজারে পৌঁছে দিতে না পারায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয় তাঁদের। বিশেষ করে বর্ষার কয়েক মাস তাঁদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় বিজেপি নেতাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যার কথা প্রশাসনকে জানানো হলেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ দেখা যায়নি। কোতুলপুর মণ্ডল-২-এর সাধারণ সম্পাদক সুশান্ত দুলে, সম্পাদক তারক কুমার মণ্ডল এবং অঞ্চলের কনভেনার অশোক মান্না সংবাদমাধ্যমের কাছে বিষয়টি তুলে ধরেছেন।তাঁদের অভিযোগ, লেগো পঞ্চায়েতের তরফে অন্তত একটি বাঁশের সাঁকো তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়নি। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষ এই সমস্যায় ভুগলেও আগের সরকারও আদিবাসী মানুষদের এই মৌলিক সমস্যার স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে যথেষ্ট উদ্যোগ নেয়নি।স্থানীয় আদিবাসী বাসিন্দাদের বক্তব্য, “আমাদের জমি নদীর ওপারে। চাষ করে সংসার চালাই। বর্ষায় নদীতে জল বাড়লে জমিতে যেতে পারি না, ফসলও নষ্ট হয়ে যায়। একটা সেতু বা অন্তত নিরাপদ সাঁকো হলে আমাদের এত কষ্ট করতে হতো না।”গ্রামবাসীদের দাবি, দ্রুত আমোদর নদীর উপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হোক। অন্তত স্থায়ী সেতু তৈরি না হওয়া পর্যন্ত নিরাপদ একটি সাঁকোর ব্যবস্থা করা হলে বর্ষাকালে তাঁদের কৃষিকাজ ও দৈনন্দিন যাতায়াত অনেকটাই সহজ হবে। এখন দেখার, দীর্ঘদিনের এই সমস্যার সমাধানে প্রশাসন কবে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।