২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম বড় আকর্ষণ হতে চলেছে কিংবদন্তি এবং নতুন প্রজন্মের মুখোমুখি লড়াই

নিজস্ব সংবাদদাতা : ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই আবেগ, উন্মাদনা আর তারকাদের মহারণ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে ইতিমধ্যেই উত্তেজনা তুঙ্গে। এবারের বিশ্বকাপ শুধু ট্রফির লড়াই নয়, বরং এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে ফুটবলের নেতৃত্ব হস্তান্তরের মঞ্চও হতে চলেছে। একদিকে বিদায়ের প্রহর গুনছেন কিংবদন্তিরা, অন্যদিকে নতুন তারকারা প্রস্তুত বিশ্বমঞ্চ দখল করতে। একদিকে বিশ্ব ফুটবলের দুই জীবন্ত কিংবদন্তি, অন্যদিকে নতুন যুগের সুপারস্টাররা। সব মিলিয়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর নজর থাকবে কয়েকজন বিশেষ তারকার উপর।

১. Lionel Messi (আর্জেন্টিনা)

বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ইতিমধ্যেই পূরণ করেছেন মেসি। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপ তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। ৩৮ বছর বয়সেও তাঁর সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব এবং ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা তাঁকে অন্যতম বড় আকর্ষণে পরিণত করেছে।

২. Cristiano Ronaldo (পর্তুগাল)

৪১ বছর বয়সেও গোলের ক্ষুধা কমেনি রোনাল্ডোর। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বাধিক গোলদাতার রেকর্ডধারী এই তারকা সম্ভবত নিজের শেষ বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যেই মাঠে নামবেন।

৩. Kylian Mbappé (ফ্রান্স)

বিশ্ব ফুটবলের বর্তমান পোস্টার বয় বলা হয় এমবাপেকে। ২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এই ফরাসি তারকা এবার গোল্ডেন বুট এবং বিশ্বকাপ—দুই লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবেন। অনেকের মতে, মেসি-রোনাল্ডো যুগের প্রকৃত উত্তরসূরি তিনিই।

৪. Erling Haaland (নরওয়ে)

ক্লাব ফুটবলে একের পর এক গোলের রেকর্ড ভাঙলেও এবারই প্রথম বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের সামর্থ্য দেখানোর সুযোগ পাচ্ছেন হালান্ড। নরওয়ের এই গোলমেশিনকে ঘিরে প্রত্যাশা তুঙ্গে।

৫. Jude Bellingham (ইংল্যান্ড)

মিডফিল্ডের অন্যতম সেরা তারকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বেলিংহ্যাম। ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ স্বপ্ন অনেকটাই নির্ভর করবে তাঁর পারফরম্যান্সের উপর। আক্রমণ এবং রক্ষণ—দুই ক্ষেত্রেই তিনি দলের বড় ভরসা।

৬. Lamine Yamal (স্পেন)

মাত্র ১৮ বছর বয়সেই বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত নাম। সদ্য লা লিগার সেরা ফুটবলারের পুরস্কার জিতেছেন ইয়ামাল। অনেক বিশেষজ্ঞই তাঁকে ভবিষ্যতের বিশ্ব ফুটবলের মুখ হিসেবে দেখছেন।

৭. Vinícius Júnior (ব্রাজিল)

ব্রাজিলের আক্রমণভাগের প্রধান অস্ত্র ভিনিসিয়ুস। তাঁর গতি, ড্রিবলিং এবং গোল করার দক্ষতা যেকোনও ম্যাচের রং বদলে দিতে পারে। বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি হতে পারেন তিনি।

২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম বড় আকর্ষণ হতে চলেছে কিংবদন্তি এবং নতুন প্রজন্মের মুখোমুখি লড়াই। একদিকে মেসি-রোনাল্ডোর শেষ বিশ্বকাপের আবেগ, অন্যদিকে এমবাপে, ইয়ামাল, বেলিংহ্যাম ও হালান্ডদের নতুন যুগের সূচনা। ফলে এবারের বিশ্বকাপ শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়, বরং ফুটবল ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হয়ে উঠতে চলেছে।