চলে গেলেন বঙ্গ রাজনীতির ‘চাণক্য’ — প্রয়াত Mukul Roy, শোকস্তব্ধ রাজনৈতিক মহল!

অভিজিৎ সাহা :  বঙ্গ রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান। প্রয়াত হলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ Mukul Roy। রবিবার গভীর রাতে, প্রায় দেড়টা নাগাদ শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন এবং কোমায় থেকে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন।পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে তিনি সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁর পুত্র Subhrangshu Roy জানান, রাত দেড়টা নাগাদ সবকিছু শেষ হয়ে যায়। চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিবারের পক্ষ থেকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া : বঙ্গ রাজনীতিতে ‘চাণক্য’ নামেই অধিক পরিচিত ছিলেন মুকুল রায়। একসময় All India Trinamool Congress-এর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে সংগঠন বিস্তার ও রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দল গঠন থেকে বুথস্তর পর্যন্ত সাংগঠনিক শক্তি গড়ে তুলতে তাঁর দক্ষতা ছিল অনস্বীকার্য। তৎকালীন তৃণমূল নেত্রী তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন তিনি।রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় রেল ও জাহাজ মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলান। তবে প্রশাসনিক দায়িত্বের চেয়ে রাজনৈতিক কৌশল প্রণয়নে তাঁর ভূমিকা ছিল বেশি আলোচিত ও প্রভাবশালী।

দলবদল ও প্রত্যাবর্তনের অধ্যায় : পরবর্তীকালে তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়েন এবং Bharatiya Janata Party-তে যোগ দেন। কৃষ্ণনগর কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে জয়লাভও করেন। তবে ২০২১ সালে আবার তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন করেন তিনি, সেই সময় দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee-এর হাত থেকে দলীয় পতাকা গ্রহণ করে ঘরে ফেরা সম্পন্ন হয়।ক্রমশ শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে যান তিনি। সম্প্রতি তাঁর বিধায়ক পদ নিয়ে আইনি জটিলতার প্রেক্ষিতে Supreme Court of India কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ দিয়ে তাঁর পদ বহাল রাখার নির্দেশ দেয়—যা ফের একবার তাঁকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে।

বর্ণময় ও বিতর্কিত পথচলা : মুকুল রায়ের রাজনৈতিক জীবন যেমন বর্ণময়, তেমনই বিতর্কে ঘেরা। একসময় তাঁকে ‘বঙ্গেশ্বর’ বলেও সম্বোধন করা হত। জমি আন্দোলন থেকে শুরু করে পরিবর্তনের রাজনীতি—রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মুহূর্তে তিনি ছিলেন অন্যতম কৌশলবিদ। সংগঠন গড়ার দক্ষতা, অন্তর্দৃষ্টি ও রাজনৈতিক সমীকরণ বোঝার ক্ষমতায় তিনি দীর্ঘদিন প্রভাব বিস্তার করেছেন রাজ্য রাজনীতিতে।তাঁর প্রয়াণে পরিবার যেমন গভীর শোকাহত, তেমনই রাজনৈতিক মহলেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বঙ্গ রাজনীতি হারাল এক অভিজ্ঞ সংগঠক ও কৌশলী মস্তিষ্ককে।