বীরভূমে রাতভর তল্লাশি! পাথর ব্যবসায়ীর আত্মীয়ের বাড়ি থেকে বিপুল নগদ ও সোনা উদ্ধারের দাবি!

নিজস্ব সংবাদদাতা : ২৯শে জুলাই বুধবার সকাল থেকেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বীরভূম জেলায়। মহম্মদ বাজার থানার অন্তর্গত ডেউচা এলাকায় এক পাথর ব্যবসায়ীর আত্মীয়ের বাড়িতে পুলিশের তল্লাশি অভিযানে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও সোনার বিস্কুট উদ্ধারের দাবি ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। ২৮শে জুলাই বুধবার দুপুর পর্যন্তও উদ্ধার অভিযান ও টাকা গণনার কাজ চলছিল।পুলিশ সূত্রে খবর, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার গভীর রাতে ডেউচা এলাকার বাসিন্দা মিনার মণ্ডলের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। মিনার মণ্ডল স্থানীয় পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের ভগ্নীপতি বলে জানা গিয়েছে। অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫ কেজি সোনার বিস্কুট এবং প্রায় ৩৫ বস্তা ভর্তি নগদ টাকা উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। বিপুল পরিমাণ নগদ গণনার জন্য ঘটনাস্থলে পাঁচটি টাকা গোনার মেশিন আনা হয়েছে।

পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া অর্থ সংরক্ষণের জন্য নিয়ে আসা হয়েছে পাঁচটি বড় টিনের ট্রাঙ্ক। বর্তমানে উদ্ধার হওয়া টাকার হিসাব করার কাজ চলছে।জানা গিয়েছে, টুলু মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে এলাকার প্রভাবশালী পাথর ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। এছাড়াও তিন জেলার ছয়টি পাথর শিল্পাঞ্চলের প্রবেশপথে সরকারি রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব তাঁর সংস্থার হাতে ছিল বলে জানা যায়।তদন্তকারী সূত্রের দাবি, যেখানে প্রতি মাসে প্রায় ৮৩ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হওয়ার কথা, সেখানে মাত্র ২ থেকে ৫ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা পড়ত এবং বাকি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

তবে এই অভিযোগ এখনও তদন্তাধীন এবং এ বিষয়ে প্রশাসন বা তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা সরকারি মন্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।উল্লেখ্য, সম্প্রতি বীরভূমে অবৈধ বালি পাচারের বিরুদ্ধে অভিযানে পুলিশ পরপর দু'বার কয়েক লক্ষ সিএফটি বালি বাজেয়াপ্ত করেছিল। তার মধ্যেই এবার বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও সোনা উদ্ধারের ঘটনায় জেলার আর্থিক অনিয়ম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থ ও সোনার উৎস, আর্থিক লেনদেন এবং সম্ভাব্য অনিয়মের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রয়েছে প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলের।