যক্ষ্মার বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার, বিশ্ব যক্ষ্মা দিবসে সচেতনতার বার্তা পশ্চিম মেদিনীপুরে!

নিজস্ব সংবাদদাতা : যক্ষ্মা প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে পশ্চিম মেদিনীপুরের স্বাস্থ্য প্রশাসন। প্রতি বছর ২৪ মার্চ পালিত হয় বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস, যার মূল লক্ষ্য এই সংক্রামক রোগ সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা।এই বিশেষ দিনটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এক ঐতিহাসিক আবিষ্কার। ১৮৮২ সালের ২৪ মার্চ জার্মান চিকিৎসক ও জীবাণুবিজ্ঞানী রবার্ট কখ যক্ষ্মার জীবাণু মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিস আবিষ্কারের কথা ঘোষণা করেন। তাঁর এই আবিষ্কারই যক্ষ্মা নির্ণয় ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।

তবে বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস পালনের সূচনা হয় অনেক পরে, ১৯৮২ সালে—কখের এই আবিষ্কারের একশো বছর পূর্তি উপলক্ষে। এর পর থেকেই দিনটি বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য সচেতনতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হয়ে উঠেছে।১৯৮০-র দশকে বিশ্বজুড়ে যক্ষ্মার প্রকোপ আবার বাড়তে শুরু করে, যা বিশেষ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো উন্নত দেশেও প্রায় দুই দশক ধরে নিম্নস্তরে থাকার পর এই রোগের সংক্রমণ বৃদ্ধি পায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও অভিবাসনের বৃদ্ধি, এইচআইভি/এইডস-এর সংক্রমণ বাড়া এবং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় সচেতনতার ঘাটতি—এই সব কারণেই যক্ষ্মার পুনরুত্থান ঘটে।

বর্তমানে যক্ষ্মা প্রতিরোধ ও নির্মূলে জোর দিচ্ছে স্বাস্থ্য দপ্তর। নিয়মিত পরীক্ষা, সময়মতো চিকিৎসা এবং সচেতনতার মাধ্যমেই এই মারাত্মক রোগের বিরুদ্ধে লড়াই জেতা সম্ভব—এই বার্তাই পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে সাধারণ মানুষের কাছে।