রমজানে কাবুলে ভয়াবহ হামলার অভিযোগ, শতাধিক প্রাণহানি—ভারতের কড়া প্রতিক্রিয়া!

নিজস্ব সংবাদদাতা : আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে এক ভয়াবহ বিমান হামলাকে ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তারা একটি নেশামুক্তি কেন্দ্র—ওমিদ অ্যাডিকশন ট্রিটমেন্ট হাসপাতালকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনায় ৪০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে আফগানিস্তান। পাশাপাশি আহত হয়েছেন প্রায় ৩০০ জন।পবিত্র রমজান মাসে এই হামলার ঘটনাকে ঘিরে ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, একটি নয়, পরপর একাধিক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে, ফলে বহু রোগী আগুনে পুড়ে মারা যান বলেও জানা গেছে। ঘটনায় সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকাজ শুরু হয় এবং দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় উদ্ধারকারী দল।আফগান স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দাবি, হাসপাতালটির আশেপাশে কোনও সামরিক ঘাঁটি ছিল না। সূত্রের খবর, হামলার সময় ওই কেন্দ্রে প্রায় ২০০০ মানুষ চিকিৎসাধীন ছিলেন।এই ঘটনাকে ঘিরে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এই হামলাকে ‘বর্বর হত্যাকাণ্ড’ বলে অভিহিত করে জানায়, “একটি হাসপাতাল কখনও সামরিক লক্ষ্য হতে পারে না। এটি মানবতার বিরুদ্ধে এক জঘন্য অপরাধ।”

ভারতের অভিযোগ, পাকিস্তান এই ঘটনাকে সামরিক অভিযান হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করলেও, বাস্তবে এটি একটি নির্মম আক্রমণ। একই সঙ্গে এই হামলাকে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতের আশঙ্কা, এর ফলে আঞ্চলিক শান্তি আরও বিপন্ন হতে পারে।অন্যদিকে, পাকিস্তান এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।

তাদের দাবি, তারা সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটিকে লক্ষ্য করেই হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানের বক্তব্য অনুযায়ী, হামলার পর যে বিস্ফোরণগুলি ঘটে, তা সেখানে অস্ত্রভাণ্ডারের উপস্থিতিরই ইঙ্গিত দেয়।এই সংঘাতের নেপথ্যে উঠে আসছে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর প্রসঙ্গ।

রশিদ খান তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, নিরীহ মানুষের উপর এই ধরনের হামলা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।তাঁর কথায়,“এটি শুধু একটি হামলা নয়,মানবতার বিরুদ্ধে জঘন্য অপরাধ।”

পাকিস্তানের অভিযোগ, এই জঙ্গি সংগঠন আফগানিস্তানে আশ্রয় পাচ্ছে এবং সেখান থেকেই তাদের কার্যকলাপ চালাচ্ছে। তবে সব আক্রমণই শুধুমাত্র জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করেই করা হয়েছে বলে দাবি পাকিস্তানের।ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে, আর সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।