দাম্পত্যের ২৫ বছর পূর্তিতে সমাজকল্যাণের বার্তা, প্রশংসায় পঞ্চমুখ এলাকাবাসী
নিজস্ব সংবাদদাতা : সাধারণত বিবাহবার্ষিকী মানেই পারিবারিক অনুষ্ঠান, আনন্দ-উৎসব ও আপ্যায়ন। কিন্তু সেই চেনা ছকের বাইরে গিয়ে সমাজসেবা, পরিবেশ সচেতনতা ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে নিজেদের ২৫তম বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করলেন ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুর-১ ব্লকের টোপগাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা কৃষক ও গৃহশিক্ষক গৌরাঙ্গ মণ্ডল এবং তাঁর স্ত্রী, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা অপর্ণা মণ্ডল।
রজতজয়ন্তী বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে দিনভর একাধিক সমাজকল্যাণমূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সকালে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরিবেশ রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দিতে বিভিন্ন প্রজাতির চারাগাছ রোপণ করা হয় এবং পরবর্তীতে উপস্থিতদের মধ্যেও চারাগাছ বিতরণ করা হয়। দুপুরে অনুষ্ঠিত হয় রক্তদান শিবির ও স্বাস্থ্য সচেতনতা শিবির। শিবিরে মোট ৩০ জন রক্তদাতা স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল মহিলাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ। রক্তদাতাদের উৎসাহিত করতে এবং সবুজায়নের বার্তা পৌঁছে দিতে প্রত্যেক রক্তদাতার হাতে একটি করে চারাগাছ উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয়। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে স্থানীয় শিল্পীরা সংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশন করে উপস্থিত দর্শকদের মন জয় করেন।
সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্ত রয়েছেন গৌরাঙ্গ মণ্ডল। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আমরা অনেকদিন ধরেই এই ধরনের সামাজিক কর্মসূচির মাধ্যমে আমাদের বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করার পরিকল্পনা করছিলাম। আজ সেই ইচ্ছা পূরণ করতে পেরে নিজেদের ধন্য মনে করছি। আমার বাবা ছিলেন একজন বড় মনের সমাজসেবী মানুষ।
গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণের জন্য তিনি নিজের জমি দান করেছিলেন। তাঁর আদর্শ থেকেই সমাজের জন্য কিছু করার অনুপ্রেরণা পেয়েছি। আমার দুই ছেলে অর্পণ মণ্ডল ও অঙ্কন মণ্ডলও এই আদর্শে অনুপ্রাণিত। আশা করি ভবিষ্যতেও তারা এই ধরনের সামাজিক উদ্যোগ চালিয়ে যাবে।” অপরদিকে, গৌরাঙ্গ মণ্ডল ও অপর্ণা মণ্ডল উপস্থিত সকলকে তাঁদের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সুবর্ণরৈখিক পরিবারের সমাজকর্মী সুনীতা প্রধান ও বর্ণালী সুঁই। তাঁরা বলেন, “এই ধরনের ব্যতিক্রমী ও সমাজমুখী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।”মণ্ডল দম্পতির এই অভিনব উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে ব্লক প্রশাসনও। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের সামাজিক দায়বদ্ধতা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। সমাজসেবা, পরিবেশ রক্ষা ও সংস্কৃতিচর্চার এক অনন্য বার্তা দিয়ে রজতজয়ন্তী বিবাহবার্ষিকী উদযাপনের এই উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।