আসানসোলে প্রাচীন মন্দিরে ভাঙচুর ঘিরে তীব্র উত্তেজনা, থানা ঘেরাওয়ে বিজেপি, জিটি রোডে রাতভর বিক্ষোভ!
নিজস্ব সংবাদদাতা : পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলে একটি প্রাচীন মন্দিরে দেবদেবীর মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রাত থেকে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার প্রতিবাদে বিজেপির দুই প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পাল ও কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বে আসানসোল দক্ষিণ থানা ঘেরাও করা হয়। জিটি রোডের উপর বসে বিক্ষোভ, টায়ার জ্বালিয়ে পথ অবরোধ এবং পুলিশের সঙ্গে বচসাকে ঘিরে রাতভর উত্তপ্ত থাকে গোটা এলাকা।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আসানসোল পুরনিগমের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের কালিপাহাড়ি এলাকায় প্রায় ২০০ বছরের পুরনো একটি মন্দিরে মঙ্গলবার দুপুরে দুষ্কৃতীরা ভাঙচুর চালায়। সকালে নিয়মমাফিক পুজো সম্পন্ন হলেও দুপুরে মন্দিরের পুরোহিত ফিরে এসে দেখেন, ভিতরে একাধিক দেবদেবীর মূর্তি ভাঙা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রাথমিকভাবে অনুমান, এলাকার সম্প্রীতি ও শান্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।ঘটনার খবর পেয়ে সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক ও বিজেপি নেত্রী Agnimitra Paul।
পরে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে তিনি সরাসরি দক্ষিণ থানার সামনে ধর্নায় বসেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিজেপির আসানসোল উত্তর কেন্দ্রের প্রার্থী Krishnendu Mukhopadhyay-ও বিক্ষোভে যোগ দেন।রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভ আরও তীব্র আকার নেয়। জিটি রোডে টায়ার জ্বালিয়ে পথ অবরোধ করা হয়, যার জেরে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হয়। পুলিশ অবরোধ তুলতে গেলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে তুমুল বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সরব হন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। স্থানীয়দেরও দাবি, অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ব্যর্থ। বিক্ষোভের সময় দক্ষিণ থানার আইসির ভূমিকা নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের আবহে এই মন্দির ভাঙচুরের ঘটনা আসানসোলের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিল। স্থানীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং প্রকৃত দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করাই এখন প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।