বিষণ্ণতার ছায়ায় জোড়া মসজিদের ১২৫তম উরস উৎসব!

পশ্চিম মেদিনীপুর সেখ ওয়ারেশ আলী : ঐতিহ্য অটুট থাকলেও মনখারাপের আবহেই পালিত হলো জোড়া মসজিদের ১২৫তম উরস উৎসব। বুধবার মহান সুফি সাধক হযরত সৈয়দ শাহ মুরশেদ আলী আলকাদেরী আল বাগদাদী মওলা পাকের পবিত্র উরস উপলক্ষে মেদিনীপুর শহরের মিয়াবাজারে অবস্থিত জোড়া মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় ধর্মীয় অনুষ্ঠান।একশো বছরেরও বেশি পুরনো এই ঐতিহ্য বজায় থাকলেও, এবছরও বাংলাদেশ থেকে পুণ্যার্থীদের আগমন সম্ভব হয়নি।

উদ্যোক্তাদের দাবি, নিরাপত্তাজনিত কারণ ও পর্যটন ভিসা বন্ধ থাকায় ওপার বাংলার হাজার হাজার ভক্ত বিশেষ ‘উরস স্পেশাল’ ট্রেনে মেদিনীপুরে পৌঁছাতে পারেননি। ফলে ধর্মীয় আবেগ ও আনন্দের মাঝেও উৎসবজুড়ে ছিল বিষণ্ণতার ছাপ।তবে ভক্তদের ভিড় থেমে থাকেনি। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও দেশের নানা প্রান্ত এবং বিদেশ থেকেও বহু মানুষ উরসে যোগ দেন। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, সিঙ্গাপুর থেকে মুরিদ বেলাল হোসেন এবং ঢাকা থেকে সৈয়দ গাওসে নাজ এই পবিত্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজক কমিটির সদস্য ইবতেহাজুল হক জানান, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণেই এবছরও ‘উরস স্পেশাল’ ট্রেন চালানো যায়নি। অন্যদিকে আঞ্জুমান কাদেরী-র সভাপতি মাহবুব আলম বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগামী বছর রাজবাড়ী থেকে প্রায় ২২০০ পুণ্যার্থীকে নিয়ে আবারও বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে।উরস উপলক্ষে এদিন কয়েক হাজার মানুষ জোড়া মসজিদ প্রাঙ্গণে সমবেত হন। মিলাদ, দোয়া এবং মাজারে ফুল ও চাদর অর্পণের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় এই পবিত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠান। ধর্মীয় ভক্তি, ঐতিহ্য এবং আবেগে ভরপুর এই উরস আবারও স্মরণ করিয়ে দিল—সীমানা থাকলেও বিশ্বাসের কোনো সীমারেখা নেই।