চন্দ্রকোনায় মমতার গর্জন: ‘বাংলার নাম কেটে বাইরের লোক ঢোকাতে দেব না’, সূর্যকান্তের সমর্থনে জনসমুদ্রে সভা!
অভিজিৎ সাহা : ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার ডাকে চন্দ্রকোনা বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সূর্যকান্ত দোলুইয়ের সমর্থনে মঙ্গলবার চড়কডাঙা মাঠে অনুষ্ঠিত হল বিশাল জনসভা। সেই সভায় উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee একের পর এক ইস্যুতে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানালেন। ভোটের আগে নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ, এসআইআর বিতর্ক, আলুচাষিদের দুর্দশা থেকে শুরু করে বাংলা বিরোধিতার অভিযোগ—সবই উঠে এল তাঁর ভাষণে।সভামঞ্চ থেকে আবেগঘন সুরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সকালে সংবাদপত্রে তিনি দেখেছেন নাম বাদ যাওয়া বহু মানুষ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। তাঁর কথায়, “মা-বোনেরা, আদিবাসী ভাই-বোনেরা, সংখ্যালঘু পরিবারগুলো লাইনে দাঁড়িয়ে আছে দেখে আমার খুব কষ্ট হচ্ছিল।” অভিযোগের সুরে তিনি বলেন, বাংলার মানুষের নাম কেটে বিহার, রাজস্থান, অরুণাচল প্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশ থেকে লোক এনে ভোটার তালিকায় ঢোকানোর চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, ট্রেনে করে লোক এনে বাংলার ভোটে প্রভাব ফেলতে চাইছে বিজেপি।চন্দ্রকোনার বিদ্যাসাগরের মাটি থেকে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, “আমি প্রতিজ্ঞা করছি, বাংলার মানুষের নাম এসআইআর থেকে বাদ দিতে দেব না।”
একইসঙ্গে তৃণমূল কর্মীদের সতর্ক থাকার বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, কোথায় কার নাম বাদ যাচ্ছে, সেদিকে নজর রাখতে হবে। তাঁর দাবি, বিজেপি পরিকল্পিতভাবে বাংলাকে দুর্বল করতে চাইছে, কিন্তু তা সফল হবে না।সভায় চন্দ্রকোনার আলুচাষিদের সমস্যার কথাও বিশেষভাবে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এলাকায় আলুচাষ বেশি হওয়ায় দাম না পাওয়ায় বহু কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, সরকার আলু কিনে আইসিডিএস, উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মিড-ডে মিল প্রকল্পে ব্যবহার করবে, যাতে চাষিরা ন্যায্য দাম পান। তাঁর অভিযোগ, কিছু বিজেপি নেতা এই ইস্যু নিয়েও রাজনীতি করার চেষ্টা করছেন।বিরোধীদের নিশানা করে Mamata Banerjee আরও বলেন, আদিবাসী, মুসলিম, হিন্দু—সব সম্প্রদায়ের মানুষের উন্নয়নের জন্য তৃণমূলকে ভোট দিতে হবে। বিজেপির বিরুদ্ধে “মিথ্যাচার” এবং “বাংলা বিরোধী রাজনীতি” করার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বাংলার মানুষের খাদ্যাভ্যাস নিয়েও হস্তক্ষেপের চেষ্টা চলছে। তাঁর কটাক্ষ, “বাংলার মানুষ মাছ-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকে।
মাছ-মাংস খাবে না তো কী, মাথা খাবে?”ধর্ম ও মানবতার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তাঁর রাজনীতির মূল লক্ষ্য মানুষের সেবা। শ্রীকৃষ্ণের বাণী উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কর্মই ধর্ম”, আর সেই ধর্ম হল মানুষকে ভালোবাসা এবং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলা। স্বাধীনতা সংগ্রামী মাতঙ্গিনী হাজরা থেকে ক্ষুদিরাম বসুর নাম উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যে বাংলার মানুষ দেশকে স্বাধীন করেছে, আজ তাঁদেরই নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে হচ্ছে কেন?সভা শেষে আবেগঘন পরিবেশে আদিবাসী মহিলাদের সঙ্গে মিশে যান মুখ্যমন্ত্রী। নিজের গাওয়া গানের তালে তাঁদের সঙ্গে নৃত্যও করেন তিনি, যা জনসভায় উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে আলাদা উচ্ছ্বাস তৈরি করে। সব মিলিয়ে, চন্দ্রকোনার সভা থেকে ভোটের আগে বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলের আক্রমণের সুর আরও তীব্র করলেন Mamata Banerjee।