পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা রোডে শুভেন্দুর কনভয়ে হামলার অভিযোগ, গ্রেপ্তারের দাবিতে পুলিশ ফাঁড়িতে অবস্থান!

চন্দ্রকোনা রোড অভিজিৎ সাহা : পুরুলিয়ায় কর্মসূচি সেরে ফেরার পথে রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ের উপর তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকেরা হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ১০ই জানুয়ারী শনিবার রাতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়ায় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা রোড এলাকায়।জানা গিয়েছে, ১০ই জানুয়ারী শনিবার রাতে  প্রায় ৮টা ২০ মিনিট নাগাদ চন্দ্রকোনা রোড দিয়ে যাওয়ার সময় বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা শুভেন্দু অধিকারীকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য রাস্তায় জমায়েত করেছিলেন। সেই সময়েই তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা সেখানে জড়ো হয়ে বিজেপি কর্মীদের ঘিরে ধরে হামলা চালান বলে অভিযোগ। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।ঘটনার খবর পেয়ে চন্দ্রকোনা রোড পুলিশ ফাঁড়ির বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। যদিও হামলার অভিযোগে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে পুলিশের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন শুভেন্দু অধিকারী। এরপর তিনি চন্দ্রকোনা রোড পুলিশ ফাঁড়িতে পৌঁছে ফাঁড়ির ইনচার্জের ঘরের সামনে অবস্থানে বসে পড়েন।বিরোধী দলনেতা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দোষীদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত তিনি অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন।

তাঁর অবস্থান বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ফাঁড়ি চত্বর ও সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এই মুহূর্তে গোটা এলাকা থমথমে পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে।এই বিষয়ে রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন,“পুরো ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত। আমাকে এবং বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উপর শাসকদলের মদতে হামলা চালানো হয়েছে।

গণতান্ত্রিকভাবে অভ্যর্থনা জানানোও আজ পশ্চিমবঙ্গে অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুলিশ সব দেখেও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। যতক্ষণ পর্যন্ত দোষীদের গ্রেপ্তার করা না হবে, ততক্ষণ আমি এখান থেকে উঠব না। প্রশাসন যদি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে রাজ্যজুড়ে আন্দোলন হবে।”এ বিষয়ে মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি তথা শালবনি ও গড়বেতা বিধানসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত কো-অর্ডিনেটর নির্মল ঘোষ বলেন,“এটা ওঁদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। গোষ্ঠী কোন্দলের জেরেই এই অশান্তি হয়েছে। তৃণমূলের কর্মীরা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নয়। বিষয়টিকে আমরা একেবারেই গুরুত্ব দিচ্ছি না।”অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক হামলা এবং অবিলম্বে অভিযুক্ত তৃণমূল কর্মীদের গ্রেপ্তার না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাওয়া হবে।ঘটনা নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি বিবৃতি মেলেনি। তবে পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।