মেদিনীপুরে হুল দিবস উদযাপন, সাঁওতাল বিদ্রোহের বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান!

অভিজিৎ সাহা : সাঁওতাল বিদ্রোহের বীর শহিদদের আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সোমবার মেদিনীপুর শহরের প্রদ্যুৎ স্মৃতি সদনে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হল হুল দিবস। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের আধিকারিক, জনপ্রতিনিধি, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন স্তরের মানুষের উপস্থিতিতে শ্রদ্ধা ও স্মরণের পরিবেশ তৈরি হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই সিধু মুর্মু, কানহু মুর্মু, চাঁদ, ভৈরব, ফুলো ও ঝানো-সহ সাঁওতাল বিদ্রোহের বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি প্রতিভা মাইতি, জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা, বিধায়ক শংকর গুছাইত, ভদ্র হেমরম, শুভাশিস ওম-সহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। তাঁদের আত্মত্যাগের স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে উপস্থিত সকলেই নীরব শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

এরপর আদিবাসী শিল্পীদের মনোমুগ্ধকর নৃত্য, সঙ্গীত ও লোকসংস্কৃতিভিত্তিক পরিবেশনা অনুষ্ঠানে এক অনন্য মাত্রা যোগ করে। আদিবাসী সংস্কৃতির বৈচিত্র্য ও ঐতিহ্যের প্রাণবন্ত উপস্থাপনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।অনুষ্ঠানে বক্তারা ১৮৫৫ সালের ঐতিহাসিক সাঁওতাল হুল-এর গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এটি ছিল ব্রিটিশ শাসন, শোষণ ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে আদিবাসী সমাজের এক সাহসী গণঅভ্যুত্থান। সিধু-কানহুদের নেতৃত্বে সংঘটিত সেই আন্দোলন আজও স্বাধীনতা, আত্মমর্যাদা এবং অধিকার রক্ষার সংগ্রামে অনুপ্রেরণার উৎস।হুল দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান কেবল ইতিহাসের এক গৌরবময় অধ্যায়কে স্মরণই নয়, আদিবাসী সমাজের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সংগ্রামী চেতনাকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরারও এক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হয়ে উঠেছে।