গোয়ালতোড়ে বসন্ত মানেই শুধু ঋতু পরিবর্তন নয়, রঙ, নৃত্য আর আবেগের এক মিলনমেলা!
পশ্চিম মেদিনীপুর সেখ ওয়ারেশ আলী : গোয়ালতোড়ে বসন্ত মানেই শুধু ঋতু পরিবর্তন নয়, রঙ, নৃত্য আর আবেগের এক মিলনমেলা। সেই আবহেই এবছর শহরজুড়ে জমে উঠল বর্ণাঢ্য বসন্ত উৎসব। বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী অধ্যাপিকা পায়েল পাত্রের উদ্যোগে ‘সৃষ্টি ড্যান্স একাডেমি’র আয়োজনে ধুমধাম করে পালিত হল এই উৎসব, যা কার্যত শান্তিনিকেতনের আদলে এক সাংস্কৃতিক আবেশ তৈরি করে গোটা এলাকায়।
সকালের আলো ফুটতেই শুরু হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষের অংশগ্রহণে গোয়ালতোড় শহর পরিক্রমা করে উৎসবের আনন্দবার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয় সর্বত্র। এরপর শহরের প্রেরণার প্রতীক সিধু ও কানু-এর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং সমাজসংস্কারক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর-এর মূর্তিতে মাল্যদান করেন পায়েল পাত্র।গুণীজন সংবর্ধনার মধ্য দিয়ে মূল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। প্রায় চারশো ছাত্রছাত্রীর মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশনায় মঞ্চ হয়ে ওঠে রঙিন ও প্রাণবন্ত।
আবিরের উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে কচিকাঁচারা, চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে বসন্তের রঙ ও আনন্দ। শুধু সাংস্কৃতিক পরিবেশনা নয়, উপস্থিত সকলের জন্য ছিল মধ্যাহ্নভোজেরও সুব্যবস্থা।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়-এর রেজিস্ট্রার ডাঃ জয়ন্ত কিশোর নন্দী, কবি দেবীপ্রসাদ পাঁজা, বাচিক শিল্পী পায়েল সামন্ত সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি।আয়োজক পায়েল পাত্র জানান, সাধারণ মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসা ও সহযোগিতাই এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। আগামী দিনে আরও বৃহত্তর পরিসরে এই বসন্ত উৎসব আয়োজনের প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি। গোয়ালতোড়ে বসন্ত এভাবেই হয়ে উঠল এক সম্প্রীতি, সংস্কৃতি ও সৌহার্দ্যের মিলনমঞ্চ।