ভক্তি ও লোকসংস্কৃতির মিলনে দরখোলায় শেষ হল মা দমদমা মায়ের মেলা!
চন্দ্রকোনা রোড, অভিজিৎ সাহা : তিনপ্রাচীন ঐতিহ্য, গভীর বিশ্বাস ও লোকসংস্কৃতির মিলনে সফলভাবে সম্পন্ন হল দরখোলা গ্রামের মা দমদমা মায়ের ৩১তম বর্ষের চার দিনব্যাপী মেলা। গত ১৭ জানুয়ারি থেকে ২০ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা থানার অন্তর্গত নয়াবসত ৭ নম্বর অঞ্চলের দরখোলা গ্রামে এই ঐতিহ্যবাহী মেলা অনুষ্ঠিত হয়। ২০শে জানুয়ারী মঙ্গলবার ছিল মেলার শেষ দিন। মাঘ মাসের রটন্তী চতুর্দশী তিথিতে মেলার সূচনা হয়। চার দিন ধরে ভক্তি, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির আবহে মেলা প্রাঙ্গণে প্রতিদিনই ছিল মানুষের ঢল। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকেও অসংখ্য ভক্ত ও দর্শনার্থীর আগমন ঘটে।ধর্মীয় আচার ও সামাজিক সম্প্রীতি
মেলার প্রথম দিন মা দমদমা মায়ের বিশেষ পূজা, কুমারী পূজা ও ছাগ বলি অনুষ্ঠিত হয়।
সন্ধ্যায় কীর্তন ও বাউল গানের আসর ভক্তদের মুগ্ধ করে।দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত হয় নরনারায়ণ সেবা। হাজার হাজার মানুষ এই সেবায় অংশগ্রহণ করে মায়ের প্রসাদ গ্রহণ করেন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলে একসঙ্গে বসে খিচুড়ি ভোজন করেন, যা সামাজিক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে।লোকসংস্কৃতির রঙে রাঙা শেষ দু’দিন
মেলার পরবর্তী দু’দিন জুড়ে চলে যাত্রা, কীর্তন, বাউল ও লোকগানের আসর। অতীতে এই মেলায় সমীরণ দাস, সঞ্জিত মণ্ডল, বাসুদেব রাজবংশীর মতো খ্যাতনামা শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেছেন। চলতি বছরে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাউল শিল্পী কৌশিক দাস অধিকারী সঙ্গীত পরিবেশন করেন, যা দর্শকদের মধ্যে বিপুল সাড়া ফেলে।
বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা স্থানীয়দের বিশ্বাস, মা দমদমা হলেন শক্তির প্রতীক ও বিপদহারিণী। শতাব্দীপ্রাচীন এই বিশ্বাসকে ঘিরেই প্রতিবছর মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। দরখোলা গ্রামের পূর্ব প্রান্তে পাথুরে টিলার উপর অবস্থিত মন্দিরে ঘোষাল পরিবারের সদস্যরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নিত্যপূজা পরিচালনা করে আসছেন।মেলা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ বছরও শান্তিপূর্ণভাবে ও সুশৃঙ্খলভাবে মেলা সম্পন্ন হয়েছে। প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই বিপুল মানুষের সমাগম সামলানো সম্ভব হয়েছে। আজ মেলার শেষ দিনে বিশেষ আরতির মধ্য দিয়ে এই বছরের মতো মা দমদমা মায়ের মেলার পরিসমাপ্তি ঘটে।