বন্যা রুখতে বড় পদক্ষেপ, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা!
সুমন মন্ডল : প্রতিবছর বর্ষা এলেই বন্যার জেরে কার্যত জীবনযুদ্ধের মুখে পড়তে হয় ঘাটাল মহকুমার লক্ষাধিক মানুষকে। নদীর জল উপচে পড়ে গ্রাম, চাষের জমি ও রাস্তাঘাট প্লাবিত হওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিনের এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হিসেবে বহু প্রতীক্ষিত ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নে এবার আরও এক ধাপ এগোল রাজ্য সরকার। আগামী চার বছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। বর্ষা শেষ হলেই শুরু হবে প্রকল্পের মূল নির্মাণকাজ।
রবিবার ঘাটাল টাউন হলে প্রাক-বন্যা পরিস্থিতি ও ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের সেচমন্ত্রী অরূপকুমার দাস, সেচ দফতরের মুখ্য সচিব রাজেশ কুমার সিনহা, পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণ, পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা, চন্দ্রকোনা বিধায়ক সুকান্ত দোলুই, ঘাটাল বিধায়ক শীতল কপাট, দাসপুরের বিধায়ক তপন কুমার দত্ত-সহ প্রশাসনের একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক। সেচ দফতরের মুখ্য সচিব রাজেশ কুমার সিনহা বলেন, "ঘাটালের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে জল জমা সম্পূর্ণরূপে রোধ করা সম্ভব নয়। তবে প্রশাসনের প্রস্তুতি এমন হতে হবে, যাতে দুর্যোগের সময় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা যায়। সেই লক্ষ্যেই সব দফতরকে সর্বক্ষণ প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"সেচমন্ত্রী অরূপকুমার দাস জানান, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই ১,২৩২ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। আগামী চার বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে প্রকল্পের সমস্ত কাজ শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের আওতায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সুইস গেটের সংস্কার ও মেরামতির কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। তবে বর্ষাকালে বড় ধরনের নির্মাণকাজ করা সম্ভব নয়। তাই বর্ষা শেষ হওয়ার পর নদী সংস্কার, বাঁধ শক্তিশালীকরণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন-সহ প্রকল্পের মূল কাজ পূর্ণোদ্যমে শুরু হবে।