কথা বলতে বলতেই টলে গেল পা, থেমে গেল বক্তব্য শিক্ষাবিদ উমাশঙ্কর নিয়োগীর!
নিজস্ব সংবাদদাতা : সাহিত্যের মঞ্চে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে বক্তব্য রাখছিলেন তিনি। কথার মধ্যেই হঠাৎ টলে গেল পা। থেমে গেল বক্তব্য, আর কিছুক্ষণের মধ্যেই চিরতরে থেমে গেল জীবনের স্পন্দন। সাহিত্যচর্চার আসরে এভাবেই আকস্মিকভাবে জীবনের শেষ অধ্যায় লিখলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, লেখক ও আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক উমাশঙ্কর নিয়োগী। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে শোকস্তব্ধ ঘাটাল তথা পশ্চিম মেদিনীপুরের সাহিত্য ও সংস্কৃতি মহল।নিখিল ভারত বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলনের ঘাটাল শাখার সহযোগিতায় ঘাটাল রবীন্দ্র শতবার্ষিকী মহাবিদ্যালয়ে আয়োজিত এক সাহিত্য সম্মেলনে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য ও ভাবনা নিয়ে বক্তব্য রাখছিলেন উমাশঙ্করবাবু।
বক্তব্য চলাকালীন আচমকাই তিনি অসুস্থ বোধ করেন এবং ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। সেই মুহূর্তে তিনি নিজেই চিৎকার করে বলে ওঠেন, 'আমায় ইলেকট্রিক শক লেগেছে।' প্রথমে উপস্থিত অনেকেই বিষয়টি বুঝে উঠতে পারেননি। পরে পরিস্থিতি দেখে স্পষ্ট হয়, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত সেখানেই তাঁর জীবনাবসান হয়।যে মঞ্চে তিনি সাহিত্য, সংস্কৃতি ও রবীন্দ্রচর্চার মধ্য দিয়ে নিজের চিন্তাভাবনা তুলে ধরছিলেন, সেই মঞ্চই হয়ে উঠল তাঁর জীবনের শেষ মঞ্চ। একজন সাহিত্যসাধকের সাহিত্য সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে রাখতেই এমন আকস্মিক প্রয়াণ উপস্থিত সাহিত্যপ্রেমী, আয়োজক ও শুভানুধ্যায়ীদের গভীরভাবে মর্মাহত করেছে।উমাশঙ্কর নিয়োগী ছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল মহকুমার একজন পরিচিত শিক্ষাবিদ ও সাহিত্য অনুরাগী ব্যক্তিত্ব।
দীর্ঘদিন তিনি নন্দনপুর হাইস্কুলে শিক্ষকতা করেছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি লেখালেখি, আঞ্চলিক ইতিহাস অনুসন্ধান এবং লোকসাহিত্য চর্চায় তাঁর বিশেষ আগ্রহ ও অবদান ছিল। অবসর গ্রহণের পরেও সাহিত্য ও সংস্কৃতির জগৎ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেননি। বরং বিভিন্ন সাহিত্যসভা, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থেকেছেন।তাঁর মৃত্যুতে শুধু একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে হারাল না ঘাটাল, হারালেন একজন নিষ্ঠাবান গবেষক, লেখক এবং সংস্কৃতিমনস্ক অভিভাবককে। বিশেষত লোকসাহিত্য ও আঞ্চলিক ইতিহাস চর্চার ক্ষেত্রে তাঁর আগ্রহ এবং কাজ আগামী দিনেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।সাহিত্যকে ভালোবেসে, সাহিত্যচর্চার মধ্যেই যাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় কেটেছে, তাঁর শেষ বিদায়ও ঘটল সাহিত্যেরই এক মঞ্চে। কথার মাঝখানে থেমে যাওয়া সেই মুহূর্ত যেন উপস্থিত সকলের মনে এক গভীর শূন্যতা তৈরি করে দিল। উমাশঙ্কর নিয়োগীর প্রয়াণে ঘাটালের সাহিত্য ও সংস্কৃতির জগতে যে অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হলো, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।