পাথরায় তিনশো বছরের প্রাচীন ঐতিহাসিক সূড়ঙ্গ আট্রালিকা গুঁড়িয়ে জমি দখলের অভিযোগ?
নিজস্ব সংবাদদাতা : পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মেদিনীপুর সদর ব্লকের কাঁসাই নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক মন্দিরময় পাথরা এলাকায় প্রায় তিনশো বছরের প্রাচীন একটি সূড়ঙ্গ আট্রালিকা বাড়ি ভেঙে ফেলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কাঁচকলা ভবানীনগর গ্রামের বাসিন্দা তথা স্বর্ণ ব্যবসায়ী Lalu Pal গোপনে ওই প্রাচীন স্থাপত্য ভেঙে বুলডোজার দিয়ে জমি সমান করে দখল করেছেন। ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রাচীন মন্দির সংরক্ষণ আন্দোলনের অন্যতম মুখ Yasin Pathan। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মেদিনীপুর সদর ব্লকের কাঁসাই নদীর তীরে অবস্থিত 'পাথরা' একটি প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থান। প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো প্রায় ৩৪টি টেরাকোটা ও পাথরের মন্দিরের জন্য এটি 'মন্দিরময় গ্রাম' হিসেবে খ্যাত। এখানকার প্রাচীন ইতিহাস, স্থাপত্য এবং মন্দিরগুলি পর্যটকদের জন্য এক অনন্য আকর্ষণ।
দীর্ঘদিন ধরে পাথরার প্রাচীন মন্দির সংরক্ষণে কাজ করা ইয়াসিন পাঠান জানান, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার জন্য জেলা প্রশাসন ও Archaeological Survey of India-কে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।উল্লেখ্য, মেদিনীপুর শহরের কাছে অবস্থিত পাথরার ৪২টি প্রাচীন মন্দির সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন ইয়াসিন পাঠান। সম্প্রীতির নজির গড়ে এই কাজের জন্য তিনি রাষ্ট্রপতির হাত থেকে ‘কবীর সম্মান’ পুরস্কারও পেয়েছিলেন।২০০৩ সালে ASI পাথরার ৪২টি মন্দিরের মধ্যে ৩৪টি মন্দির এবং সংলগ্ন জমি অধিগ্রহণ করে।
অভিযোগ, সেই জমির ক্ষতিপূরণ এখনও পাননি অনেক কৃষক। ইয়াসিন পাঠানের দাবি, এলাকার মানুষ তাঁর উপর ভরসা করে জমি সংরক্ষণের কাজে সহযোগিতা করেছিলেন, কিন্তু আজও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় তাঁরা হতাশ।তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনকালীন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ঐতিহাসিক স্থাপত্যটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, জমিটি রায়ত সম্পত্তি হলেও কয়েকশো বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য এভাবে ধ্বংস করা আইনসম্মত নয়।ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যেই জেলা শাসক, ASI-র কলকাতা ও বিষ্ণুপুর দফতরে অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।