গুজবের ভিডিও ঘিরে কেশপুরে তীব্র উত্তেজনা-পুলিশি মারধরের অভিযোগে রাজ্য সড়ক অবরোধ, নামানো হল অতিরিক্ত বাহিনী!
অভিজিৎ সাহা : পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশপুরে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি গুজবের ভিডিও পোস্টকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল এলাকায়। এক অ্যাম্বুলেন্স চালককে পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করেছে—এমন অভিযোগ ঘিরে মঙ্গলবার ২৪শে ফেব্রুয়ারি কেশপুর–মেদিনীপুর রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা। অভিযুক্ত অ্যাম্বুলেন্স চালকের নাম আজিজুল ইসলাম। তাঁর বাড়ি দোগাছিয়া গ্রামে (১২ নম্বর অঞ্চল)।
পরিবার সূত্রে দাবি, সম্প্রতি এলাকায় ‘চোর পড়ছে’ সংক্রান্ত একটি ভিডিও তিনি একটি হোয়াটস্যাপ গ্রুপে পোস্ট করেন। অভিযোগ, ওই গ্রুপে কেশপুর থানার পুলিশকর্মী ও হাসপাতালের অন্যান্য অ্যাম্বুলেন্স চালকরাও সদস্য ছিলেন। পরিবারের দাবি, ভিডিও পোস্টের পর পুলিশ তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় এবং শারীরিকভাবে হেনস্থা করে। যদিও পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বাড়ি ফেরার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ উঠেছে।পথ অবরোধে উত্তাল এলাকা: ঘটনার প্রতিবাদে গ্রামবাসীরা কেশপুর–মেদিনীপুর রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। অসুস্থ আজিজুল ইসলামকে অ্যাম্বুলেন্সে শুইয়ে রাস্তার উপর অবস্থান বিক্ষোভ চলে। । ফলে কয়েক ঘণ্টা ধরে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়।পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে বচসা বাধে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিক্ষোভকারীরা তাঁদেরও সরিয়ে দেন বলে সূত্রের খবর। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও চাপানউতোর শুরু হয়েছে। উঠছে একাধিক প্রশ্ন: গোটা ঘটনাকে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন সামনে আসছে—গুজব রুখতে প্রশাসনের ভূমিকা কতটা সক্রিয়?আটক ব্যক্তির সঙ্গে দুর্ব্যবহার হয়েছে কি না, তার নিরপেক্ষ তদন্ত হবে কি? সোশ্যাল মিডিয়ায় তথ্য শেয়ারের আগে যাচাই কতটা জরুরি? প্রশাসনের তরফে সকলকে গুজব না ছড়ানোর এবং আইন নিজের হাতে না তোলার আবেদন জানানো হয়েছে।