কবিতা, আবৃত্তি ও গানে মুখর খড়গপুর শঙ্খমালার ১০১তম নিবেদন!

সমীরণ ভৌমিক : পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বৃহত্তম রেল শহর খড়গপুরের গোলবাজার দুর্গামন্দির মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘খড়গপুর শঙ্খমালা’-র ১০১তম নিবেদন ‘মৃত্যুহীন বৃষ্টি হবে’। প্রতিষ্ঠার ৩৫তম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে কবিতা, আবৃত্তি ও সংগীতের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা উপভোগ করেন উপস্থিত দর্শকরা। বর্ষামুখর সন্ধ্যায় গোলবাজার দুর্গামন্দির মঞ্চে জমে ওঠে সংস্কৃতিপ্রেমীদের ভিড়। আবৃত্তি, কবিতা ও সংগীতের সম্মিলিত পরিবেশনায় এক অনন্য সাংস্কৃতিক আবহ তৈরি হয়। দীর্ঘ ৩৫ বছরের পথচলায় সমাজসেবা, শিল্পচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ‘খড়গপুর শঙ্খমালা’ যে ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে, তারই প্রতিফলন দেখা যায় এই আয়োজনে।অনুষ্ঠানের সূচনা হয় শঙ্খমালার শিশু সদস্যদের সমবেত কবিতা পাঠের মাধ্যমে। ‘ছোটদের ফার্স্ট হতে হয়’ শীর্ষক কবিতাটি সংকলন ও পরিচালনা করেন বিশিষ্ট আবৃত্তিকার ও বাচিক শিল্পী কৃশানু আচার্য।

পরবর্তীতে তিনি একক আবৃত্তিও পরিবেশন করেন।অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন খড়গপুর শঙ্খমালার সভাপতি কেকা সিনহা। এরপর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতা অবলম্বনে পরিবেশিত হয় আবৃত্তি আলেখ্য ‘সময় হয়েছে নতুন খবর আনার’। কবিতা সংকলনের দায়িত্বে ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি অপূর্ব চট্টোপাধ্যায় এবং পরিচালনায় ছিলেন সহ-সম্পাদক লীনা গোপ। এই আবৃত্তি পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করেন শঙ্খমালার সম্পাদক অর্ণব চক্রবর্তী, লীনা গোপ, স্বপ্না মজুমদার, পাপিয়া ঘোষাল, আশীষ খান, রাকেশ সাহা সহ অন্যান্য বাচিক শিল্পীরা।অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে অনুষ্ঠিত হয় ‘শিল্পীর সুরে সুরে বৃষ্টির ছন্দে’ শীর্ষক সংগীতানুষ্ঠান। এর ভাষ্য রচনা ও পাঠ করেন সোনালী মিত্র। সংগীত পরিবেশন করেন আত্রেয়ী রক্ষিত, শুভেন্দু ঘোষ, নন্দিতা চক্রবর্তী, দেবব্রত দাস, সুস্মিতা বাগচী এবং শঙ্খমালার অন্যান্য শিল্পীরা।কবিতা, আবৃত্তি ও সংগীতের মেলবন্ধনে আয়োজিত এই সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা উপস্থিত দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলে। বর্ষার আবহে শিল্প-সংস্কৃতির এমন আয়োজন খড়গপুরের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন সংস্কৃতিপ্রেমীরা।