পরিবারের সঙ্গে বিজয়ার আনন্দ ভাগ করে নিল খড়্গপুর টাউন থানা, পুলিশকর্মীদের সম্মান জানালেন পুলিশ সুপার!
অরিন্দম চক্রবর্তী : পুজোর দিনগুলিতে শহরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যস্ত থাকেন পুলিশকর্মীরা। উৎসবের আনন্দে যখন সাধারণ মানুষ পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে সময় কাটান, তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিজেদের কর্তব্য পালন করেন তাঁরা। সেই কারণে অনেক সময় নিজের পরিবারের সঙ্গেও উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ হয় না। পুলিশকর্মীদের সেই ত্যাগ ও তাঁদের পরিবারের অবদানের কথা মাথায় রেখে খড়্গপুর টাউন থানার উদ্যোগে আয়োজিত হল বিজয়া সম্মেলনী।বুধবার, ২৮ অক্টোবর, খড়্গপুর শহরের ট্রাফিক গোলখুলি দুর্গামন্দির সংলগ্ন ময়দানে এই বিজয়া সম্মেলনীর আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা। উপস্থিত ছিলেন খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ ঘোষ, খড়্গপুরের পুলিশ আধিকারিক সিদ্ধার্থ ডাঙ্গি, খড়্গপুর টাউন থানার আইসি অমিত মিত্র, খড়গপুর মহিলা থানার আইসি প্রতিভা-হালদার-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
পুলিশকর্মীদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এই আয়োজন উৎসবের আবহে এক আন্তরিক পরিবেশ তৈরি করে।অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা বলেন, পুজোর সময় পুলিশকর্মীদের অধিকাংশকেই ডিউটিতে ব্যস্ত থাকতে হয়। ফলে তাঁরা নিজেদের পরিবারের সঙ্গে পর্যাপ্ত সময় কাটাতে পারেন না।
সেই কথা মাথায় রেখেই এদিন পুলিশকর্মীদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিজয়া সম্মেলনীর আয়োজন করা হয়েছে।পুলিশকর্মীদের পরিবারের উদ্দেশে তিনি বলেন, পুজোর সময় তাঁরা হয়তো আপনাদের পাশে থাকতে পারেন না কিংবা আপনাদের সঙ্গে পর্যাপ্ত সময় কাটানোর সুযোগ পান না। কিন্তু সেই সময় তাঁরা সমাজের জন্য কাজ করেন, সাধারণ মানুষকে নিরাপদে রাখেন। তাঁদের এই দায়িত্ব ও কর্তব্যের গুরুত্ব অনেক বেশি। পুলিশকর্মীদের এই কাজের পিছনে তাঁদের পরিবারের সহযোগিতা ও ত্যাগও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।বিজয়া সম্মেলনীর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে পুলিশকর্মী ও তাঁদের পরিবারের মধ্যে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান জেলা পুলিশ সুপার।
কালীপুজোয় আইন মেনে আনন্দের বার্তা : সামনেই কালীপুজো। উৎসবকে কেন্দ্র করে বাজি ব্যবহারের নিয়মকানুন ও নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেন পুলিশ সুপার। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, এ বিষয়ে একটি বৈঠক রয়েছে। সেই বৈঠকে কোন ধরনের বাজি ব্যবহার করা যাবে এবং শব্দের মাত্রা কত ডেসিবেলের মধ্যে রাখতে হবে, সে বিষয়ে নির্দেশিকা জানানো হবে।পুলিশ সুপার স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, আইন ভাঙার মধ্যে কোনও বাহাদুরি নেই। আইন মেনে উৎসবের আনন্দ উপভোগ করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি আশ্বাস দেন, সাধারণ মানুষের পাশে থেকে পুলিশ সব ধরনের প্রয়োজনীয় পরিষেবা দিতে প্রস্তুত থাকবে।অন্যদিকে, বেআইনিভাবে বাজি তৈরি এবং মজুত করার বিরুদ্ধে প্রশাসনের তরফে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। উৎসবের আনন্দ যাতে কোনওভাবেই জননিরাপত্তা বিঘ্নিত না করে, সেদিকে নজর রাখার বার্তা দেন পুলিশ সুপার।পুলিশকর্মীদের পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি তাঁদের পারিবারিক সম্পর্ক ও মানসিক বন্ধনকে গুরুত্ব দেওয়ার এই উদ্যোগ বিজয়ার আবহে এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। একই সঙ্গে আসন্ন কালীপুজোকে কেন্দ্র করে আইন মেনে উৎসব পালন এবং নিরাপত্তা বজায় রাখার বার্তাও উঠে এল এই সম্মেলনী থেকে।