ঝড়-বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রাঘাত! পশ্চিম মেদিনীপুরে একদিনে প্রাণ হারালেন চারজন!

নিজস্ব সংবাদদাতা : বুধবারের ঝড়-বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতের তাণ্ডবে শোকের ছায়া নেমে এল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায়। ডেবরা, নারায়ণগড় এবং খড়গপুর লোকাল থানা এলাকায় পৃথক ঘটনায় বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয়েছে চারজনের। মৃতদের মধ্যে তিনজন মহিলা ও একজন পুরুষ। এছাড়াও ডেবরার ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী বুধবার পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম-সহ জঙ্গলমহলের একাধিক এলাকায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা ছিল। দুপুর গড়াতেই আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায় এবং শুরু হয় ঝোড়ো হাওয়া, প্রবল বৃষ্টি ও বজ্রপাত। সেই প্রাকৃতিক দুর্যোগই প্রাণ কেড়ে নিল চারজনের।

সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা ব্লকের রাধামোহনপুর ১১/২ গ্রাম পঞ্চায়েতের রায়পুকুর এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিনের মতো একদল মহিলা মাঠে কৃষিকাজ করছিলেন। আচমকা আবহাওয়ার অবনতি হলে তাঁরা বাড়ি ফেরার চেষ্টা করেন। সেই সময় বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন কয়েকজন। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক দু'জনকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃতরা হলেন মালতী পাত্র (৪৬) এবং কাজল নায়েক (৬২)। তাঁদের বাড়ি রাধামোহনপুর এলাকায়। একই ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।অন্যদিকে, নারায়ণগড়ের বহুরূপা এলাকায় মাঠে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয় তাপস সাবর (৫০)-এর। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে মকরামপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।একই দিনে খড়গপুর লোকাল থানার বরগাই এলাকায় কৃষিকাজ চলাকালীন বজ্রাঘাতে প্রাণ হারান সুমিত্রা খামরাই (৫২)।এক দিনের ব্যবধানে বজ্রাঘাতে চারজনের মৃত্যু এবং একাধিক ব্যক্তি আহত হওয়ার ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিকূল আবহাওয়ার সময় মাঠে বা খোলা জায়গায় কাজ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সময় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার আবেদন জানিয়েছে।