মেদিনীপুরে শোকের ছায়া: প্রয়াত বিশিষ্ট স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ এস. কে. হাটই, হারাল ‘গরিবের ভগবান’!

নিজস্ব সংবাদদাতা : মেদিনীপুরের চিকিৎসা জগতে নেমে এল গভীর শোকের ছায়া। আজ সকাল প্রায় ৭টা নাগাদ প্রয়াত হলেন শহরের বিশিষ্ট সিনিয়র গাইনোকোলজিস্ট ডাঃ এস. কে. হাটই। তাঁর মৃত্যুতে শুধু চিকিৎসক মহলই নয়, সমগ্র মেদিনীপুর জেলা এক মানবিক চিকিৎসককে হারাল, যাঁকে বহু মানুষ স্নেহভরে চিনতেন “গরিবের ভগবান” নামে।দীর্ঘ চিকিৎসক জীবনে ডাঃ হাটই অসংখ্য রোগীকে নিষ্ঠা, দক্ষতা এবং অদম্য মানবিকতার সঙ্গে চিকিৎসা পরিষেবা দিয়েছেন। বিশেষ করে স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিদ্যায় তাঁর অসামান্য অবদান তাঁকে মেদিনীপুর তথা পার্শ্ববর্তী জেলার মানুষের কাছে অত্যন্ত সম্মানিত করে তুলেছিল। রোগীর কাছে তিনি শুধু একজন চিকিৎসক ছিলেন না, ছিলেন পরিবারের ভরসার মানুষ।বর্তমান সময়ে যখন চিকিৎসার খরচ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে, সেই সময়েও ডাঃ হাটই মাত্র ৩০ টাকার বিনিময়ে রোগী দেখতেন। এই সামান্য ফি-র আড়ালে লুকিয়ে ছিল তাঁর অসীম মানবিকতা ও সেবার মনোভাব। চিকিৎসাকে তিনি কখনও শুধুমাত্র পেশা হিসেবে দেখেননি; বরং মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে নিজের কর্তব্য বলে মনে করতেন।তাঁর চেম্বারে শুধু রোগের চিকিৎসাই হতো না, সেখানে মানুষ পেত সাহস, আশ্বাস এবং বেঁচে থাকার নতুন আশা। দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি যে ভালোবাসা, সহমর্মিতা এবং আশ্রয় দিয়েছেন, তা কোনও অর্থমূল্যে বিচার করা সম্ভব নয়।তাঁর প্রয়াণে সহকর্মী চিকিৎসক, প্রাক্তন রোগী এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। অনেকে তাঁর স্মৃতি রোমন্থন করে জানিয়েছেন, ডাঃ হাটইয়ের মতো মানবিক চিকিৎসক আজকের দিনে সত্যিই বিরল।ডাঃ এস. কে. হাটইয়ের মৃত্যুতে মেদিনীপুরের চিকিৎসা ক্ষেত্রে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হল। তবে তাঁর সেবামূলক জীবন, মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং চিকিৎসাকে মানবসেবার উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আদর্শ আগামী দিনেও সকলের মনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।