হার্নিয়ার অস্ত্রোপচারের পর রোগীর মৃত্যু, চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে উত্তাল মেদিনীপুর মেডিক্যাল!

সেখ ওয়ারেশ আলী : ২৯শে অক্টোবর বৃহস্পতিবার মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে হার্নিয়ার অস্ত্রোপচারের পর এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের আগে রোগীর শারীরিক পরীক্ষার রিপোর্ট যথাযথভাবে খতিয়ে না দেখেই চিকিৎসা করা হয়েছিল। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। এই মর্মে হাসপাতাল সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি মেদিনীপুর কোতোয়ালি থানাতেও অভিযোগ দায়ের করেছেন পরিবারের সদস্যরা। একই সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ময়নাতদন্ত এবং গোটা প্রক্রিয়ার ভিডিওগ্রাফি প্রকাশের দাবি তুলেছেন তাঁরা।পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত সুশান্ত মাল নারায়ণগড় থানার অন্তর্গত খুরশি গ্রামের বাসিন্দা।

হার্নিয়ার অস্ত্রোপচারের জন্য ২৮শে অক্টোবর বুধবার তাঁকে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, রোগীর শারীরিক অবস্থার বিভিন্ন পরীক্ষার রিপোর্ট যথাযথভাবে পর্যালোচনা না করেই বুধবার বিকেলে তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়।পরিবারের দাবি, অস্ত্রোপচারের পর থেকেই সুশান্ত মালের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠলে তাঁকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তরিত করা হয়। এরপর ২৯শে অক্টোবর বৃহস্পতিবার ভোরে পরিবারের সদস্যদের তাঁর মৃত্যুর খবর জানানো হয়।

আচমকা এই মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসার পদ্ধতি এবং অস্ত্রোপচার-পরবর্তী পরিষেবা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন।অস্ত্রোপচারের আগে সমস্ত প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না, পরীক্ষার রিপোর্টগুলি যথাযথভাবে খতিয়ে দেখা হয়েছিল কি না, অস্ত্রোপচার কিংবা পরবর্তী চিকিৎসায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না—এমন একাধিক প্রশ্নের উত্তর চাইছে মৃতের পরিবার। তাঁদের দাবি, সুশান্ত মালের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সামনে আনতে গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক।

এই দাবিতেই হাসপাতাল সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। পাশাপাশি মেদিনীপুর কোতোয়ালি থানাতেও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মৃত্যুর কারণ নিয়ে যাতে কোনও সংশয় না থাকে, সেই কারণে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ময়নাতদন্ত এবং ময়নাতদন্তের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ার ভিডিওগ্রাফি প্রকাশের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।যদিও পরিবারের তরফে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তোলা হলেও, তদন্তের আগে সেই অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। রোগীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনও ত্রুটি ছিল কি না, তা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সামনে এলেই স্পষ্ট হবে। এখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন এই অভিযোগের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন মৃতের পরিজনরা।